শতফুল রাজনৈতিক ধারার বিপরীতে রনো ছিলেন ব্যতিক্রম

রাজনৈতিক ধারার বিপরীতে রনো ছিলেন ব্যতিক্রম: টরেন্টোর নাগরিক সভায় বক্তারা


স্টাফ রিপোর্ট


“বাবা আমার অভিভাবক কমই ছিলেন…উনি ছিলেন আমার কমরেড। বাড়িতে রাজনীতি ছাড়া কোন আলোচনা ছিল না। এছাড়া বিজ্ঞান ও সাহিত্য নিয়েও আলোচনা ছিল। রবীন্দ্রনাথ ছিলেন তাঁর প্রিয় কবি…তাঁর কবিতা আবৃত্তি করতেন।"

 

হায়দার আকবর খান রনোর কন্যা কানাডা প্রবাসী রানা সুলতানা রোববার টরেন্টোর এক নাগরিক সভায় এভাবেই তাঁর বাবাকে স্মরণ করছিলেন। "আমি তাঁর একমাত্র সন্তান। জীবনের শেষ সময়ে তাঁর পাশে থাকতে পারিনি। তবে এজন্য তাঁর ভালোবাসার কোনো ঘাটতি ছিল না। আসলে তিনি শুধু তাঁর দলেরই মানুষ ছিলেন। এর বাইরে তাঁর অন্য কোনো জীবন ছিল না।"

 

প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক উদ্যোগ (পিডিআই) টরেন্টোর ডেনফোর্থে হোপ ইউনাইটেড চার্চ মিলনায়তনে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট আন্দোলনের অন্যতম পুরোধা, বিশিষ্ট মার্কসবাদী তাত্ত্বিক ও লেখক, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)’র কেন্দ্রীয় কমিটির অন্যতম উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা কমরেড হায়দার আকবর খান রনোর স্মরণে এক নাগরিক সভার আয়োজন করে। সভায় রনোর রাজনৈতিক সহকর্মী, ছেলেবেলার বন্ধু ছাড়াও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব বক্তব্য রাখেন।

 

নেতৃবৃন্দ বলেন, শ্রমিক শ্রেণির মানুষের মুক্তির লড়াইয়ে কমরেড রনো সামনের কাতারে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। এসব মানুষের মুক্তির জন্য জীবন উৎসর্গ করেছেন। নীতি ও আদর্শের প্রশ্নে কোন আপস করেননি।

 

এর আগে প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক উদ্যোগ (পিডিআই) কানাডা সভাপতি আজফর সৈয়দ ফেরদৌস সূচনা বক্তব্য রাখেন। সংগঠনের সহ-সভাপতি সদস্য স্বপন বিশ্বাসের শোক প্রস্তাবের পর কমরেড রনোর প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়।

 

আলোচনায় অংশ নিয়ে রনোর এক সময়ের রাজনৈতিক সহকর্মী মাহবুব আলম বলেন, তিনি ধর্মকে রাজনৈতিক ব্যবহারের বিপক্ষে ছিলেন। তিনি বিশ্বাস করতেন মানুষ ভৌগলিক, রাজনৈতিক স্বাধীনতা পেয়েছে কিন্তু শ্রমিক শ্রেণীর মানুষের জন্য একটা তৃতীয় শক্তি গড়ে উঠবে এবং সেই শক্তি হবে বাম গণতান্ত্রিক শক্তি। “কমরেড রনোর জীবন একটা সম্পূর্ণ জীবন কারণ তিনি যে আদর্শে বিশ্বাস করতেন জীবনের শেষদিন পর্যন্ত সে আদর্শ ধারণ করেছেন। তিনি ছিলেন ব্যতিক্রম অফুরন্ত প্রাণশক্তি, মানসিক শক্তি ছিল তাঁর মধ্যে।”

 

রনোর আরেক রাজনৈতিক সহকর্মী আজিজুল মালিক বলেন, জীবনের শেষ দিকে তাঁর চোখের দৃষ্টি কম থাকলেও অন্যের সাহায্য নিয়ে বই লিখে গেছেন তিনি। পিডিআই নেতা বিদ্যুৎ রঞ্জন দে বলেন, রাজনীতিতে অনেক আঁকা বাঁকা পথ থাকে রনো ভাই আঁকা বাঁকা পথে চলেছেন ঠিকই কিন্তু কখনো আদর্শচ্যুত হননি। তিনি বিশ্বাস করতেন বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে হলে মৌলবাদকে বাদ দিয়েই এগোতে হবে।

 

রনোর বন্ধু ওয়াহিদ আসগর বলেন, তিনি ছিলেন খুবই বিশেষ একজন মানুষ। আদর্শের জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করেছেন, এরকম ব্যক্তিত্ব বিরল। ছেলেবেলার বিভিন্ন ঘটনার স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, জীবনে অনেক বন্ধু পেয়েছি কিন্তু রনোর মতো এরকম সমৃদ্ধ কেউ করেনি।

 

সাবেক ডাকসু ভিপি সুলতান মোহাম্মদ মনসুর বলেন, দুঃখী মানুষের মধ্যে হাসি ফোটানোই ছিল তাঁর স্বপ্ন। তিনি তাঁর লেখার মধ্য দিয়ে অসংখ্য মানুষকে অনুপ্রাণিত করে গেছেন।

 

সভায় অন্যান্যের মধ্যে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপচার্য, ডক্টর জসিম উদ্দিন, বাংলাদেশ থেকে আগত জাসদ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মহসিন ও সাবেক ছাত্রমৈত্রী নেতা বেনজির আহমেদ ছাড়াও উদীচী কানাডার সভাপতি সুভাস দাস, টরেন্টো ফিল্ম ফোরামের সভাপতি এনায়েত করিম বাবুল, অন্টারিও আওয়ামী লীগ সভাপতি মোস্তফা কামাল, বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের সভাপতি ফখরুল ইসলাম চৌধুরী মিলন বক্তব্য রাখেন।