যুক্তরাষ্ট্র থেকে শত শত শরণার্থী ঢুকছে কানাডায়
ডেস্ক রিপোর্ট
ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসী বিরোধী নীতির কারণে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বিভিন্ন দেশের শত শত অস্থায়ী বাসিন্দা মন্ট্রিয়েল সীমান্ত দিয়ে কানাডায় ঢুকছে।
ট্রাম্প প্রশাসন এবং হোমল্যান্ড সিকিউরিটি লক্ষ লক্ষ কিউবা, হাইতি, নিকারাগুয়া এবং ভেনিজুয়েলার নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে অস্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে বাস করার অনুমতি বাতিল করে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে দেশ ত্যাগ করার নির্দেশ দিয়েছে।
শরণার্থীদের নিয়ে কাজ করা মন্ট্রিয়েল-ভিত্তিক একটি সংস্থার মুখপাত্র ফ্রানৎস আন্দ্রে বলেন, প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ট্রাম্পের জয়ের পর থেকেই কানাডাতে শরণার্থীর সংখ্যা বাড়তে শুরু করে। এসব শরণার্থীদের মধ্যে অধিকাংশই হাইতির নাগরিক যাদের অস্থায়ী মর্যাদা প্রত্যাহার করা হয়েছে।
তিনি বলেন, “কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে তারা অস্থায়ী মর্যাদা প্রত্যাহারের চিঠি পেতে শুরু করেছে। চিঠি পাওয়া মাত্রই তারা যুক্ততরাষ্ট্র ত্যাগ করে অন্য কোথাও আশ্রয় পেতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। ট্রাম্প দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে এতো বেশি মানুষকে ফেরত পাঠানো হয়েছে যে তারা এখন আতঙ্কগ্রস্থ।
"আমরা সবাই জানি সেখানে কি ঘটছে। সেখানকার অভিবাসন কর্মকর্তারা বিভিন্ন কাজের জায়গা, চার্চ এমনকি রাস্তাঘাটেও মানুষকে থামিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ ও তল্লাশি করছে। জিজ্ঞাসাবাদে সন্তোষজনক উত্তর দিতে না পারলে অনেককেই আটক করা হচ্ছে।"
যুক্তরাট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি জানায়, মার্চ মাসে কিউবা, হাইতি, নিকারাগুয়া ও ভেনিজুয়েলার ৫ লক্ষ ৩২ হাজার নাগরিকের অস্থায়ী মর্যাদা প্রত্যাহার করা হয়েছে এবং ২৪ এপ্রিল তাদের মেয়াদ শেষ হবে।
এছাড়া ট্রাম্প প্রশাসনও ৬ লক্ষ ভেনিজুয়েলা এবং ৫ লক্ষ হাইতির নাগরিকের সুরক্ষা দেয়ার অস্থায়ী মর্যাদা বাতিল করেছে এবং তাদের মেয়াদ আগামী আগস্টে উত্তীর্ণ হবে। তবে সরকারের এ নির্দেশ ফেডারেল বিচারক সাময়িকভাবে স্থগিত করেছেন।
কানাডা বর্ডার সার্ভিসেস এজেন্সি জানায়, চলতি বছরের শুরু থেকে সেইন্ট-বার্নার্ড-দে-ল্যাকল সীমান্ত দিয়ে শরণার্থী অনুপ্রবেশ বাড়তে শুরু করেছে। এজেন্সির হিসাবে, গত মার্চে ১৩৫৬ জন এবং এপ্রিলের ৫ তারিখ পর্যন্ত ৫৫৭ জন এই সীমান্তে শরণার্থী আবেদন করেছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসী বিরোধী অভিযানে অসংখ্য মানুষ সেদেশ ত্যাগ করে শরণার্থী হিসেবে কানাডাতে ঢুকবে বলে আশংকা করা হচ্ছে। ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে হাইতির অভিবাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর নীতির কারণে সেদেশের হাজার হাজার নাগরিক কানাডাতে ঢুকে কুইবেক প্রদেশে আশ্রয় নেয়।
এদিকে, শরণার্থী বাড়ার ঘটনা কানাডার ফেডারেল নির্বাচনের প্রচারণায় প্রভাব ফেলছে। প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি এ প্রসঙ্গে বলেছেন, এটা গ্রহণযোগ্য নয় যে, মানুষ যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করে কানাডায় এসে আশ্রয় নেবে।
তিনি বলেন, “চুক্তি অনুযায়ী আমরা তাদেরকে যুক্তরাষ্ট্রে ফেরত পাঠাতে পারি এবং আমার জন্য এটাই সঠিক। সেখানকার পরিস্থিতি পাল্টে গেছে এবং এখানে শরণার্থীর সংখ্যা বাড়তে পারে। দু’দেশকে অবশ্যই এ সমস্যা সমাধানে কাজ করতে হবে।”
কনজারভেটিভ পার্টির নেতা পিয়েরে পলিভ্যের ভঙ্গুর অভিবাসন ব্যবস্থার জন্য লিবারেল পার্টিকে দায়ী করে এডমুনটনে গণমাধ্যম কর্মীদের বলেন, প্রকৃতপক্ষে কেউ শরণার্থী হলে বা কারো জীবন বিপন্ন হলে তাদেরকে এখানে নিয়ম অনুযায়ী থাকতে দেয়া উচিত।