অভিবাসন বহিষ্কারের অপেক্ষায় ৫ লাখ বিদেশী

বহিষ্কারের অপেক্ষায় ৫ লাখ বিদেশী


স্টাফ রিপোর্ট


কানাডা থেকে প্রায় পাঁচ লাখ বিদেশি নাগরিক বহিষ্কারের অপেক্ষায় আছেন। এ তালিকায় আপিল ও শরণার্থী আবেদনকারী ছাড়াও বহিষ্কার কার্যকরের অপেক্ষায় থাকা এবং অপরাধ কর্মকান্ডের সাথে সংশ্লিষ্ট পলাতক বিদেশীরাও রয়েছেন।

 

কানাডা বর্ডার সার্ভিসেস এজেন্সির (সিবিএসএ) তালিকায় ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বহিষ্কারের অপেক্ষায় থাকা ৪৮৫,৩৯৫ বিদেশী নাগরিকের মধ্যে ৪০৪,২০৬ জন সাধারণ তালিকাভুক্ত।

 

সাধারণ তালিকাভুক্ত বিদেশিদের বহিষ্কারের ব্যাপারে কোন উদ্যোগ নেয়ার দরকার হয় না। এর মধ্যে কানাডায় এসে শরণার্থী হিসেবে অপেক্ষমান আবেদনকারীও রয়েছেন। এছাড়া ২০,৭২২ বিদেশীর নাম তালিকায় থাকলেও আপিল আবেদনের কারণে আপাতত তাদের বহিস্কার সম্ভব নয়।

 

এজেন্সির হিসাবে, বর্তমানে ৩০,৪৯৫ জন বহিষ্কার কার্যকরের অপেক্ষায় আছেন। এছাড়া বিভিন্ন অপরাধে সংশ্লিষ্টতার কারণে পলাতক ২৯,৯৩৬ জনও এ তালিকায় রয়েছেন।

 

বহিষ্কারের অপেক্ষায় থাকা বিদেশিদের মধ্যে ১২০,২৭৩ জন অন্টারিও এবং ১৯৭,০২৯ জন কুইবেক প্রদেশের। এর বাইরে আরো প্রায় ১২৩,০০০ জন কোন অঞ্চলের সে বিষয়ে জানানো হয়নি।

 

এজেন্সির সর্বশেষ ২৫ ফেব্রুয়ারির তালিকা অনুযায়ী, গত বছর ১৬,৮৬০ বিদেশী নাগরিককে বহিষ্কার করা হয়েছে এবং এ সংখ্যা ২০১৯ সালের পর সর্বোচ্চ।

 

ফেরত পাঠানো নাগরিকদের প্রথম ১০টি দেশ হচ্ছে: মেক্সিকো ৩,৫৭৯ জন; ভারত ১,৯৩২ জন; কলম্বিয়া ৯৫৬ জন; হাইতি ৮০৬ জন; রোমানিয়া ৬৫৩ জন; যুক্তরাষ্ট্র ৬৩১ জন; চীন ৫৩৫ জন; ভেনেজুয়েলা ৪৭০ জন; পাকিস্তান ৩৯২ জন এবং হাঙ্গেরি ৩৬৬ জন।

 

এতে বলা হয়, “যেসব বিদেশী নাগরিকদের কানাডাতে প্রবেশ করার অথবা থাকার অধিকার নেই তাদেরকে ফেরত পাঠানো জরুরি। কানাডার অভিবাসন কর্মসূচির প্রতি আস্থা রাখতে এবং যেসব অভিবাসী আইন মেনে একটা বিশেষ প্রক্রিয়ায় বৈধভাবে এদেশে এসেছে তাদের প্রতি সুবিচার করতে এসব অবৈধ বিদেশীদের ফেরত পাঠানো প্রয়োজন।”

 

গত বছর ফেরত পাঠানো বিদেশী নাগরিকদের মধ্যে ১৩,৫২৭ জন শরণার্থী হিসেবে এবং ২,২৬১ জন অভিবাসন আইনে অযোগ্য বিবেচিত হয়েছেন। এছাড়া ৭৭১ জন বিভিন্ন ধরণের অপরাধ কর্মকান্ডে জড়িত থাকার কারণে এবং ৮৯ জন সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রের সাথে জড়িত থাকার কারণে বহিস্কৃত হয়েছেন।

 

শরণার্থীদের মধ্যে ৪৪ জনকে কানাডাতে আশ্রয় নিয়ে আবার নিজের দেশ ভ্রমণ করার কারণে এবং ১৪৫ জনকে ভুল তথ্য দেয়ার কারণে বহিস্কার করা হয়েছে। বাকি ২৩ জনের ব্যাপারে কিছু বলা হয়নি।

 

সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনা করে বহিষ্কৃতদের মধ্যে ১১৭৬ জনকে নিরাপত্তা বাহিনীর পাহারায় ফেরত পাঠানো হয়েছে। এ ধরণের বিশেষ ব্যবস্থায় ফেরত পাঠাতে গড়ে জন প্রতি খরচ হয় প্রায় ১৩ হাজার ডলার।