অভিবাসন বিভাগে কর্মী ছাঁটাই: বাড়বে ভোগান্তি
স্টাফ রিপোর্ট
কানাডার অভিবাসন বিভাগ আগামী তিন বছরে প্রায় ৩,৩০০ কর্মী ছাঁটাইয়ের ঘোষণা দিয়েছে। সরকারের খরচ কমাতে মোট জনবলের ২৫ শতাংশ কর্মী ছাঁটাইয়ের এ উদ্যোগ অভিবাসন কাজে দীর্ঘসূত্রিতা ও ভোগান্তি বাড়াবে বলে আশংকা করা হচ্ছে।
ফেডারেল সরকারের এ বিভাগ ২০ জানুয়ারি এক ইমেইল বার্তায় কর্মীদেরকে জানায়, কোন কোন কর্মী ছাঁটাই হবে সেটা নিশ্চিত করা না গেলেও প্রায় সব বিভাগ ও শাখা থেকে ছাঁটাই হতে পারে।
“বিভাগ নির্দিষ্ট করা হলেও পদ এখনো চিহ্নিত হয়নি। সময়ের আগে কিছু কিছু মেয়াদি চুক্তি বাতিল হতে পারে। তবে সেক্ষেত্রে কমপক্ষে ৩০ দিনের নোটিশ দেয়া হবে।”
বার্তায় বলা হয়েছে, “আমাদের হিসাবে বিভিন্ন বিভাগ থেকে ৮০ শতাংশ অস্থায়ী কর্মী ছাঁটাই হতে পারে। এছাড়া বাকি ২০ শতাংশ স্থায়ী লোকবল সমন্বয়ের মাধ্যমে ছাঁটাই হতে পারে। তবে কারা এর আওতায় আসবে সেটা এখনো নির্ধারণ করা হয়নি। ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি থেকে এ বিষয়ে জানানো শুরু হবে।”
অভিবাসন বিভাগের কর্মীরা মূলত কানাডার স্থায়ী ও অস্থায়ী অভিবাসী, নাগরিকত্ব এবং পাসপোর্টের আবেদন যাচাই বাছাই ছাড়াও সাক্ষাৎকার গ্রহণের কাজগুলো করে থাকেন।
ট্রেজারি বোর্ডের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, অভিবাসন, শরণার্থী ও নাগরিকত্ব বিভাগে বর্তমানে প্রায় ১৩,১০০ কর্মকর্তা ও কর্মী রয়েছে যা ২০১৯ সালে ৭,৯০০ এবং ২০১৪ সালে ছিল ৫,৯০০ জন।
এদিকে, কর্মী ছাঁটাইয়ের সরকারি এ সিদ্ধান্তে বিভিন্ন পক্ষ ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। কানাডা এমপ্লয়মেন্ট ও ইমিগ্রেশন ইউনিয়নের সভাপতি রুবিনা বাউচার সিবিসিকে বলেছেন, "এটা অত্যন্ত দুঃখজনক। এ পদক্ষেপের ফলে বিভিন্ন পরিবার এবং দেশের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে কি পরিস্থিতিতে পড়তে হবে সেটা ভেবে আমরা শংকিত।"
তিনি বলেন, অসংখ্য মানুষ পরিবারের সাথে মিলিত হবার অপেক্ষায় আছে। ব্যবসা-বাণিজ্যে প্রয়োজনীয় লোকবলের অভাব, দক্ষ জনবলের অভাবে স্বাস্থ্যসেবা খাতের বেহাল অবস্থা। সরকারের অপরিণামদর্শী এ পদক্ষেপের মাসুল সবাইকে গুনতে হবে।
লাইটহাউজ ইমিগ্রেশন ল'এর প্রতিষ্ঠাতা তামারা মোশের-কুঁজের বলেন, ছাঁটাইয়ের সংখ্যা দেখে তিনি হতভম্ব হয়ে পড়েছেন। এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে অসংখ্য আবেদনকারীকে বছরের পর বছর অপেক্ষা করতে হবে। বর্তমান পরিস্থিতি খুবই খারাপ এবং সেটা আরো জটিল হতে যাচ্ছে।