তীব্র কাজের সংকটে কানাডার নতুন অভিবাসীরা
ডেস্ক রিপোর্ট
টরেন্টোতে অধ্যয়নরত বিদেশী এক ছাত্র নিশাত। খণ্ডকালীন একটি কাজ পেতে মাস খানেক চেষ্টা করে চলেছেন। কানাডার জনপ্রিয় ফার্স্টফুড চেইন টিম হর্টনসের একটি শাখায় কয়েকজনকে নিয়োগ দেয়া হবে, এ খবর পেয়ে সেখানে যাবার সিদ্ধান্ত নেয় সে। নির্দিষ্ট দিনে নির্ধারিত সময়ের আগে সেখানে পৌঁছে দেখে লম্বা এক লাইন।
মাত্র কয়েকটি পদে খণ্ডকালীন কাজের জন্য লম্বা এক লাইন দেখে কাজ না পাওয়ার সম্ভাবনাই যে বেশি তা আর বুঝতে বাকি থাকে না। লাইনে অপেক্ষারত সবার জীবনবৃত্তান্ত সংগ্রহ করে চলে যাওয়ার অনুরোধ করে কর্তৃপক্ষ জানায়, সাক্ষাৎকারের জন্য তাদেরকে পরে ডাকা হবে। তবে আদৌ আর ডাক আসবে কি না তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ নিশাতের।
এ অভিজ্ঞতা শুধু নিশাতের একার নয়। গত প্রায় দু'বছরে অভিবাসী বা আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী হিসেবে যারা এসেছেন তাদের জন্য এ যেন নিত্যদিনের অভিজ্ঞতা। অনেক স্বপ্ন নিয়ে যে দেশটাকে বছরের পর বছর বুকে লালন করে এসেছেন এ যেন সে কানাডা নয়! হাজার হাজার নতুন অভিবাসী ও বিদেশী শিক্ষার্থীদের ভুল সিদ্ধান্তের এক করুণ অভিজ্ঞতা!
কোভিড-১৯ পরবর্তী সময়ে কানাডার শ্রম বাজারে প্রচন্ড লোকবল সংকট দেখা দেয়। কারখানা, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে সংকট উত্তরণে সরকারের উদার অভিবাসন নীতির আওতায় দেশটিতে বিপুল সংখ্যক নতুন অভিবাসী আসে। কিন্তু সাময়িক এসব শূন্য পদের বিপরীতে জনবল বেশি হওয়ায় তীব্র প্রতিযোগিতার পাশাপাশি বেকারত্বও বেড়ে যায়।
কিন্তু কোভিড-১৯ পরবর্তী সময়ে শ্রম বাজারের এ সংকট উত্তরণে কানাডা সরকারের উদার অভিবাসন নীতির আওতায় দেশটিতে বিপুল সংখ্যক নতুন অভিবাসী আসে। সাময়িক এসব শূন্য পদের বিপরীতে জনবল বেশি হওয়ায় তীব্র প্রতিযোগিতার পাশাপাশি বেকারত্বও বেড়ে যায়।
পরিসংখ্যান বলছে, ২০২২ সালের মে মাসে কানাডায় শূন্য পদ ছিল ৫ দশমিক ৭ শতাংশ। কিন্তু চলতি বছরের মে মাসে শূন্য পদের হার কমে দাঁড়ায় ৩ দশমিক ৪ শতাংশে। অর্থাৎ কাজের চাহিদার বিপরীতে নিয়োগদাতাদের প্রয়োজন এখন অনেক কম।
এক হিসাবে, সাম্প্রতিক সময়ে আসা অভিবাসীদের প্রতি ৮ জনের মধ্যে ১ জন বেকার জীবন যাপন করতে বাধ্য হচ্ছে। একইসাথে দেশের যুব জনগোষ্ঠীর বেকারত্বও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে গেছে। ব্যাংক অফ কানাডা বলছে, সংকুচিত শ্রম বাজারে অধিকাংশ মানুষ তীব্র প্রতিযোগিতার মুখে পড়লেও যুব জনগোষ্ঠী এবং নতুন অভিবাসীদের মধ্যে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে বেশি। কারণ এ দুই শ্রেণীর জনগোষ্ঠী অপেক্ষাকৃত কম অভিজ্ঞতার কারণে শুরুর দিকের কাজের জন্য প্রতিযোগিতা করে থাকে।
বর্তমানে উচ্চ সুদের হারের কঠিন অর্থনৈতিক বাস্তবতায় কানাডার জনসংখ্যা অল্প সময়ে দ্রুত বেড়ে যাওয়ায় শ্রম বাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। আবার আবাসন সংকটের পাশাপাশি জীবন যাত্রার উচ্চ ব্যয়ের কারণে নতুন অভিবাসী ও বিদেশী শিক্ষার্থীদের মানবেতর জীবন যাপনের বিষয়টি বহির্বিশ্বে কানাডার ভাবমূর্তি প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে বলে মনে করেন অনেকেই।
আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী নিশাত তার তিক্ত অভিজ্ঞতার ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তুলে ধরার সাথে সাথে তা মানুষের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে পড়ে। এতে বর্তমানে দেশটিতে কাজের সংকট এবং বেকার যুবকদের দুর্ভোগের বিষয়টি উঠে এসেছে।
ভিডিওটি দেখে একজন লিখেছেন, "প্রায় ৬ মাস হয়ে গেছে আমি এখনও একটা পার্ট টাইম চাকরি খুঁজছি! আন্তর্জাতিক ছাত্রদের জীবন যে কতটা কঠিন তা এখানে এলে বোঝা যায়।" অন্য একজনের পরামর্শ, নির্মাণকাজ বা ট্রাক চালানো শিখুন। কানাডাতে এসব কাজের চাহিদা রয়েছে।