অভিবাসন অভিবাসী ঠেকাতে এবার বিজ্ঞাপন দিচ্ছে কানাডা

অভিবাসী ঠেকাতে এবার বিজ্ঞাপন দিচ্ছে কানাডা


স্টাফ রিপোর্ট


অভিবাসীদের দেশ হিসেবে এক সময় বিশ্বমঞ্চে বিশেষ ভাবমূর্তি গড়ে তুলেছিল কানাডা। অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে দক্ষ অভিবাসী আকৃষ্ট করাই ছিল মূল উদ্দেশ্য। তবে বিপুল ব্যয়ে এবার বিপরীত দিকে যাত্রা শুরু করলো দেশটি।

 

অভিবাসীদের ঠেকাতে ক্ষমতাসীন লিবারেল সরকার বিপুল অর্থ ব্যয় করে বিজ্ঞাপন প্রচার শুরু করেছে। আগামী মার্চ পর্যন্ত চলবে এই বিজ্ঞাপন। সরকার এ বাবদ খরচ করছে প্রায় সোয়া দুই কোটি টাকা।

 

স্প্যানিশ, উর্দু, ইউক্রেনীয়, হিন্দি ও তামিলসহ ১১টি ভাষায় বিজ্ঞাপনগুলো প্রচার করার কথা দেশটির অভিবাসন বিভাগ জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে। এসব বিজ্ঞাপনের একটি হচ্ছে, ‘‘কানাডাতে আশ্রয় পাওয়া সহজ নয়। নিয়মকানুন অনেক কঠিন। জীবনে পরিবর্তন আনার এ সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে আপনার যা জানা প্রয়োজন, জেনে নিন।''

 

অনলাইনে কেউ ‘কানাডায় কীভাবে আশ্রয় পাওয়া যাবে' বা ‘শরণার্থী কানাডা' লিখে তথ্য খুঁজলে ‘কানাডায় আশ্রয় পদ্ধতি - আশ্রয় তথ্য' নামে এসব বিজ্ঞাপন দেখানো হবে বলে অভিবাসন বিভাগ জানিয়েছে।

 

সাম্প্রতিক সময়ে বেড়ে যাওয়া শরণার্থী আশ্রয় প্রার্থীদের প্রতি এটা এক ধরণের কড়া বার্তা বলে বিবেচনা করা হচ্ছে। আবাসন সংকট থেকে শুরু করে জীবন যাপনের ব্যয় বেড়ে যাওয়া, বেহাল স্বাস্থ্যসেবা—এসব কিছুর জন্য অভিবাসীদেরকে দায়ী করা হয়ে থাকে। ব্যাপক সমালোচনা এবং জনপ্রিয়তা কমে যাওয়ার প্রেক্ষিতে সরকার অভিবাসী কমাতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়া শুরু করে।

 

কোভিড-১৯ পরবর্তী সময়ে কলকারখানা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে তীব্র শ্রমিক সংকট দেখা দিলে সরকারের উদার অভিবাসন নীতির আওতায় বিপুল সংখ্যক নতুন অভিবাসী আসে। সাময়িক এসব শূন্য পদের বিপরীতে জনবল বেশি হওয়ায় তীব্র প্রতিযোগিতার পাশাপাশি বেকারত্বও বেড়ে যায়।

 

অটোয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনের অধ্যাপক ও অভিবাসন বিশেষজ্ঞ জেমি চাই ইয়ুন লিউ বলেন, কানাডাতে আশ্রয়ের জন্য আবেদন করা নিয়ে অনলাইনে অনেক বিভ্রান্তিকর তথ্য আছে। সুতরাং এ ধরণের বিজ্ঞাপন মানুষকে সঠিক তথ্য জানতে সাহায্য করতে পারে।

 

কিন্তু ‘‘যদি বলা হয়, ‘আপনি স্বাগত নন'...তাহলে সেটা কানাডার প্রচলিত নীতির বিপরীত মনে হওয়া স্বাভাবিক। আসলে এটা এক ধরণের নীতি পরিবর্তনের বার্তা।"

 

আগামী বছরের অক্টোবরের মধ্যে কানাডায় ফেডারেল নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। নির্বাচনের আগে অভিবাসী ইস্যু এদেশের রাজনীতিতে বেশ গুরুত্ব পাচ্ছে।