কানাডা অসংখ্য মার্কিন নাগরিক কানাডার পথ খুঁজছে

অসংখ্য মার্কিন নাগরিক কানাডার পথ খুঁজছে


ডেস্ক রিপোর্ট


যুক্তরাষ্ট্রের পরিবর্তিত রাজনৈতিক এবং সামাজিক অবস্থার প্রেক্ষাপটে কানাডাতে পারিবারিক শেকড় আছে এমন অসংখ্য মার্কিন নাগরিক বর্তমানে কানাডার নাগরিকত্ব ফিরে পেতে আবেদন করছেন।

 

অভিবাসন আইনজীবীরা বলছেন, কানাডাতে বাবা-মা অথবা দাদা-দাদি আছেন, যুক্তরাষ্ট্রের এমন নাগরিকদের অনেকেই কানাডাতে ফিরে আসার প্রক্রিয়া শুরু করেছেন। এসব মার্কিন নাগরিকের সংখ্যা সম্পর্কে কোন ধারণা পাওয়া না গেলেও আইনজীবীরা বলছেন, এ সংখ্যা অভূতপূর্ব।

 

ভ্যানকুভার ভিত্তিক অভিবাসন আইনজীবী রিচার্ড কুরল্যান্ড বলেন, সাধারণত যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পর এদেশে ফিরে আসার বিষয়ে এক ধরণের আগ্রহ লক্ষ্য করা যায় এবং বয়স্ক মানুষেরা খোঁজখবর বেশি নিয়ে থাকেন।

 

“তবে এবারের পরিস্থিতি একেবারেই ভিন্ন। আর্থ-সামাজিক, রাজনৈতিক অবস্থান নির্বিশেষে সেখানকার মানুষের মধ্যে এক ধরণের ভয় কাজ করছে এবং তারা এ দেশের নাগরিকত্ব পেতে আগ্রহী।”

 

কুরল্যান্ডের সাথে একমত পোষণ করে আইনজীবী চান্তাল দেসলজেস বলেন, বয়স্ক মানুষ ছাড়াও অভিভাবকেরা তাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে এ ব্যাপারে আগ্রহ দেখাচ্ছে। “মানুষের মধ্যে এক ধরণের ভীতি কাজ করছে এবং তারা বর্তমান পরিস্থিতিতে অস্বস্তি বোধ করছে। এ কারণে সেদেশ ত্যাগ করতে তারা বদ্ধপরিকর।”

 

কুরল্যান্ড মনে করেন, সেখানকার অবনতিশীল পরিস্থিতির কারণেই তারা কানাডার নাগরিকত্ব পাওয়ার চেষ্টা করছেন। মানুষের মধ্যে এ ধরণের ভয় আগে কখনো দেখিনি।

 

দেসলজেস বলেন, বিষয়টা এমন নয় যে মানুষ শুধুমাত্র সেখানকার প্রশাসনকে হুমকি বলে মনে করছে। মানুষ সামাজিকভাবেও এক ধরণের ভয়ে আছে। দীর্ঘদিন একসাথে ওঠাবসা করেছেন এবং তাদেরকে সমমনা হিসেবে বিবেচনা করতেন - এরকম অনেকে এখন ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকান্ড সমর্থন করছেন। সমাজের একাংশের আসল চেহারা প্রকাশ হয়ে পড়েছে।

 

তিনি বলেন, কানাডায় ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নেয়ার ব্যাপারে আগে অনেকের মধ্যে দ্বিধাদ্বন্দ্ব ছিল। কিন্তু এখন তারা আসার প্রক্রিয়া শুরু করে দিয়েছেন।

 

কুরল্যান্ড বলেন, কেউ কেউ নাগরিকত্বের কাগজপত্র পাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে চান না। সাময়িকভাবে এদেশে ঢুকে তারা বাকি কাজ শেষ করতে চান।

 

দেসলজেস মনে করেন, মানুষ সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছে এবং তারা আসতে বদ্ধপরিকর। “কেউ কেউ এখানে কাজের জন্য চেষ্টাও করছেন। আমার পেশাজীবনে এরকম পরিস্থিতি আগে কখনো দেখিনি।”