জন্মহার কমলেও কানাডার জনসংখ্যা দ্রুত বাড়ছে
স্টাফ রিপোর্ট
জন্মহার অত্যন্ত কম হওয়া সত্ত্বেও বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম দেশ কানাডার জনসংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। প্রতি বছর কয়েক লাখ নতুন স্থায়ী এবং অস্থায়ী অভিবাসী আসার কারণেই এ সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে সরকারি এক সংস্থার প্রতিবেদনে।
বয়স্ক জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং নিম্ন জন্মহারের কারণে আগামী বছরগুলোতেও দেশটিতে এ ধারা অব্যাহত থাকবে এবং অভিবাসনই কানাডার জনসংখ্যা বাড়ার মূল চালিকাশক্তি হবে বলে এতে উল্লেখ করা হয়েছে।
স্ট্যাটিস্টিক্স কানাডার হিসাবে, দেশটিতে ২০২৩ সালে ৪ লাখ ৭০ হাজারের বেশি অভিবাসী এসেছে এবং চলতি বছরে আরো ৪ লাখ ৮৫ হাজার অভিবাসী আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আগামী বছর থেকে এ সংখ্যা ৫ লাখ ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করছে সরকার।
ইতিহাসে প্রথমবারের মতো দেশটিতে মাত্র দুই বছরে অর্থাৎ ২০২১ এবং ২০২২ সালে জনসংখ্যা বেড়েছে ১০ লাখ। তবে এ জনসংখ্যা বৃদ্ধির ৯৬ শতাংশই পূরণ হয়েছে স্থায়ী এবং অস্থায়ী অভিবাসীদের মাধ্যমে। এ ধারা অব্যাহত থাকলে ২০৪৩ সাল নাগাদ মোট জনসংখ্যা ৫ কোটিতে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে।
স্ট্যাটিস্টিক্স কানাডা ২৪ জুন প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলেছে, দেশের জনসংখ্যা ২০২৩ সালে ছিল ৪ কোটি ১ লাখ এবং ২০৭৩ সাল নাগাদ এ সংখ্যা বেড়ে হতে পারে ৬ কোটি ৩০ লাখ। অর্থাৎ প্রতি বছর জনসংখ্যা গড়ে প্রায় ৪ লাখ ৪০ হাজার বা প্রতিদিন ১২০০ বাড়তে পারে বলে ধারণা দেয়া হয়েছে এ হিসাবে।
তবে জনসংখ্যা বাড়ার ধারণা করা হলেও ২০৩৬ সালের মধ্যে কানাডায় জন্ম অপেক্ষা মৃত্যুর হার বেশি হতে পারে। সরকারি এ সংস্থার হিসাব বলছে, বয়স্ক জনসংখ্যার কারণে আগামী বছরগুলোতে মৃত্যুর সংখ্যা বাড়বে কিন্তু দেশে নতুন জন্ম হার অনেক কম। বর্তমানে কানাডার স্বাভাবিক জনসংখ্যা বৃদ্ধি - নতুন জন্ম থেকে মৃত্যুর সংখ্যা বাদ দিলে অবশিষ্ট - খুবই নগন্য। উন্নত বিশ্বের দেশগুলোতে চলছে একই প্রবণতা।
এনভাইরোনিক্স এনালিটিক্সের প্রধান জনসংখ্যাবিদ ডাগ নরিস বলেন, বয়স্ক জনসংখ্যা বাড়ার কারণে আগামীতে শ্রম বাজারে দ্বিগুন চাপ তৈরী হবে। বয়স বাড়তে থাকায় এই জনশক্তি অবসর নেয়ার পর শূন্যতা পূরণে নতুন জনবল দরকার হবে।
একইসাথে অবসর জীবনে তাঁদের চিকিৎসা এবং অন্যান্য সেবা দিতে বাড়তি লোকবল প্রয়োজন পড়বে, এ কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বয়স্ক জনগোষ্ঠীর জন্য দীর্ঘ মেয়াদি সেবা কেন্দ্রগুলোতে কি পরিমান বা কি ধরণের জনবল দরকার হবে এসব বিষয়ে আগে থেকেই পরিকল্পনা করতে হবে।
জনবল বাড়াতে আরো বেশি স্থায়ী এবং অস্থায়ী অভিবাসী আনতে সরকার অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়েছে। বিভিন্ন প্রদেশে এজেন্সিগুলোর মাধ্যমে স্বাস্থ্য সেবা, নির্মাণ ছাড়াও আরো কিছু খাতে জরুরি ভিত্তিতে হাজার হাজার দক্ষ জনবল অস্থায়ী অভিবাসী হিসাবে দ্রুত সময়ের মধ্যে আনার প্রক্রিয়া চলছে। এসব অস্থায়ী অভিবাসীর অধিকাংশই পরবর্তীতে স্থায়ী অভিবাসী হিসেবে এদেশে বসবাস করবে বলে আশা করা হচ্ছে।