কানাডা কঠিন সময়ে রাজনীতিবিদ লরেঞ্জো বেরার্দিনেত্তি

কঠিন সময়ে রাজনীতিবিদ লরেঞ্জো বেরার্দিনেত্তি


স্টাফ রিপোর্ট


কঠিন সময় পার করছেন স্কারবোরোর রাজনীতিবিদ লরেঞ্জো বেরার্দিনেত্তি। টরেন্টোর এক সময়ের প্রভাবশালী এই রাজনীতিবিদ জীবনের শেষ অধ্যায়ে হয়ে পড়েছেন গৃহহীন। বর্তমানে বাস করছেন এজাক্সের এক আশ্রয়কেন্দ্রে।

 

পেশায় আইনজীবী বেরার্দিনেত্তি বাঙালি অধ্যুষিত স্কারবোরো সাউথওয়েস্ট থেকে ২০০৩ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত লিবারেল পার্টি থেকে ৪ বার প্রাদেশিক পার্লামেন্টের সদস্য নির্বাচিত হন।

 

বর্তমান সদস্য (এমপিপি) বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত ডলি বেগমের কাছে তিনি ২০১৮ সালের নির্বাচনে হেরে যান। এর আগে ১৯৮৯ থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত কয়েক মেয়াদে সিটি কাউন্সিলর হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

 

রাজনীতিতে ফেরার আশায় ২০২২ সালে আবারো সিটি কাউন্সিলর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে হেরে যান তিনি। এরপরই গুরুতর অসুস্থ হয়ে চেতনাহীন অবস্থায় মাস খানেক হাসপাতালে কাটান। আর স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেননি। এক পর্যায়ে ব্যক্তিগত সঞ্চয়ও শেষ হয়ে আসে।

 

উপায়ন্তর না দেখে এজাক্সে ভাইয়ের বাসায় গিয়ে ওঠেন তিনি। কিন্তু সেখানে আর্থিক বিষয়ে মনোমালিন্য হলে উঠতে বাধ্য হন এক আশ্রয়কেন্দ্রে। সেই থেকে সেখানেই বাস করছেন তিন দশকের বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের অধিকারী বেরার্দিনেত্তি।

 

তবে তাঁর চিকিৎসক কয়েক মাস আগে আবারো তাঁকে কাজে ফেরার অনুমতি দিয়েছেন। বর্তমানে আইন পেশায় ফেরার লক্ষ্যে কাজ শুরু করেছেন তিনি।

 

বেরার্দিনেত্তি ২০০৪ সালে বিয়ে করেন মিশেল হল্যান্ডকে। মিশেল বেরার্দিনেত্তি ২০১০ সাল থেকে ২০১৮ পর্যন্ত দুই মেয়াদে স্কারবোরো সাউথওয়েস্ট থেকে সিটি কাউন্সিলর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। কিন্তু ২০২১ সালে এই দম্পতির ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়।

 

টরেন্টো স্টার পত্রিকা সম্প্রতি বেরার্দিনেত্তির বর্তমান অবস্থা নিয়ে নিবন্ধ প্রকাশ করলে বিষয়টি সবার গোচরে আসে। তাঁকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেয়া হয়।

 

সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “আমার গল্প বলতে গেলে চোখে পানি চলে আসতে পারে। মানুষ ভাবতে পারে আমি একটা গাধা, সুসময়ে ভবিষ্যতের জন্য সঞ্চয় করে রাখতে পারিনি। যে কারো জীবনেই এটা ঘটতে পারে। এটা দুর্ভাগ্যজনক যে, আমি অসুস্থ হয়ে পড়ি এবং সুস্থ হতে অনেক বেশি সময় লেগে যায়।”

 

“আমি একজন সফল আইনজীবী হতে পারতাম। কিন্তু সেটা বাদ দিয়ে মানুষের জন্য কাজ করেছি,” একথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “এই বয়সে আবারো আইন পেশা শুরু করা খুব কঠিন। আমার বন্ধুদের সবাই এখন অবসর জীবনে আছেন। কিন্তু আমার কোন অবসর ভাতা নেই। আমাকে এটা করতে হবে। না হলে আমি টিকে থাকতে পারবো না।”

 

এজাক্স আশ্রয়কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক মারলা ওয়াল্টার্স বেরার্দিনেত্তিকে সমর্থন করে বলেন, "হঠাৎ করেই মানুষের জীবনে পাল্টে যেতে পারে। সমাজের সব স্তরের মানুষই আশ্রয়কেন্দ্রে এসে থাকে। যদিও আমরা কেউ এটা ভাবি না কিন্তু আমাদের কেউই তাঁদের থেকে খুব বেশি দূরে না।”

 

দলমত নির্বিশেষে এই রাজনীতিবিদের পাশে দাঁড়িয়েছেন সবাই। তাঁদেরই উদ্যোগে 'গো-ফান্ড-মি'তে জমা পড়েছে লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি অর্থ। রাজনীতিতে বিপরীত মেরুর করজারভেটিভ দলের প্রাদেশিক পার্লামেন্টের সদস্য লিসা ম্যাকলয়েড তাঁকে সমর্থন জানিয়ে বলেন, পার্লামেন্ট সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর কানাডার সাবেক রাজনীতিবিদদের জন্য কঠিন সময় নতুন কিছু না হলেও বেরার্দিনেত্তি হচ্ছেন প্রথম ব্যক্তি যাকে আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে হয়েছে।