কানাডা বাণিজ্য যুদ্ধের নেতিবাচক প্রভাব আবাসন খাতে

বাণিজ্য যুদ্ধের নেতিবাচক প্রভাব আবাসন খাতে


স্টাফ রিপোর্ট


যুক্তরাষ্ট্রের চাপিয়ে দেয়া বাণিজ্য যুদ্ধের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে কানাডার মন্দা কবলিত আবাসন খাতে।

 

কানাডা থেকে রফতানিকৃত পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্র শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেয়ার পর অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে প্রথম এক মাসে বাড়ি বিক্রি এবং তালিকাভুক্তি উল্লেখযোগ্য সংখ্যক কমেছে।

 

কানাডা রিয়েল এস্টেট এসোসিয়েশনের (সিআরইএ) হিসাবে, ফেব্রুয়ারি মাসে বাড়ি বিক্রি আগের মাসের তুলনায় ১০ শতাংশ কমেছে যা ২০২৩ সালের নভেম্বরের পর এক মাসে সর্বনিম্ন। গত তিন বছরের মধ্যে বাড়ি বিক্রি এক মাসে এতো বেশি সংখ্যায় কমতে দেখা যায়নি।

 

এসোসিয়েশনের সিনিয়র অর্থনীতিবিদ শন ক্যাথকার্ট বলেন, দৈনিক তথ্য বিশ্লেষণে এটা পরিষ্কার যে, শুল্ক আরোপের কারণে আবাসন খাতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। এ সংক্রান্ত ঘোষণা আসার পর থেকে গত বছর এবং চলতি বছরের মধ্যে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য দেখা গেছে। এ ব্যবধান ফেব্রুয়ারি মাস জুড়ে দীর্ঘ হয়েছে।

 

“আমরা এক ধরণের অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। এরকম সময়ে মানুষ সাধারণত জীবনের সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত নিতে চায় না।”

 

এসোসিয়েশনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারি মাসে নতুন তালিকাভুক্তি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ১৩ শতাংশ কমেছে। গত জানুয়ারিতে তালিকাভুক্তি বাড়তে থাকলেও ফেব্রুয়ারিতে বিপরীতমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। ফেব্রুয়ারির শেষ নাগাদ সব মিলিয়ে ১৪৬,২৫০ বাড়ি তালিকাভুক্ত ছিল যা গত কয়েক বছরের গড়ের চেয়ে কম।

 

ক্যাথকার্ট বলেন, চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে এসোসিয়েশনের পক্ষে চলতি বছরের বাজার পরিস্থিতি সম্পর্কে ধারণা দেয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।

 

“কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদের হার কমানোর কারণে এ বছর বাজার ঘুরে দাঁড়াবে এবং ক্রেতারা বাড়ি কিনতে আগ্রহী হবে, এমনটাই প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়েছিল। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতির কারণে মানুষ আরো অপেক্ষা করার পক্ষপাতী। বিষয়টা এমন নয় যে শুল্ক আরোপের কারণে এটা হচ্ছে। এখানে মূল বিষয় হচ্ছে অনিশ্চয়তা।”

 

এসোসিয়েশনের সভাপতি জেমস ম্যাবে বলেন, গত কয়েক সপ্তাহের অনিশ্চয়তায় মনে হচ্ছে ক্রেতারা এখন এ ধরণের বড় অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে দ্বিতীয়বার চিন্তা করে দেখতে চায়।

 

অক্সফোর্ড ইকোনোমিক্সের সিনিয়র অর্থনীতিবিদ মাইকেল ড্যাভেনপোর্ট কানাডা রিয়েল এস্টেট এসোসিয়েশনের পরিসংখ্যানের সাথে একমত পোষণ করে বলেন, এটা ঠিক যে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যে বাণিজ্য যুদ্ধের কারণে মানুষের আয় এবং কাজের ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

 

“তবে অন্যান্য কারণও আছে। মানুষের আয়ের তুলনায় বাড়ির দাম এখনো অনেক বেশি। বেকারত্ব বাড়ার পাশাপাশি জনসংখ্যা বৃদ্ধি কমে যাওয়ায় সামগ্রিকভাবে আবাসন খাতে এর প্রভাব পড়ছে।”

 

তিনি বলেন, বাণিজ্য যুদ্ধ অর্থিনীতিকে মন্দার দিকে ঠেলে দিলে আগামীতে এ খাতে আরো নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে নতুন জনবল নিয়োগ বন্ধ করে দিয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হওয়ার সাথে সাথে বেকারত্ব আরো বাড়বে এবং বাড়ির দাম ও বিক্রি আরো কমতে থাকবে।