কার্নির নেতৃত্বে লিবারেল পার্টির টানা চতুর্থ জয়
স্টাফ রিপোর্ট
কানাডার জাতীয় নির্বাচনে ক্ষমতাসীন প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির নেতৃত্বে লিবারেল পার্টি টানা চতুর্থবারের মতো বিজয়ী হয়েছে। তবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় কার্নিকে অন্য দলের সমর্থন নিয়ে সরকার গঠন করতে হবে।
কানাডার ৩৪৩ আসন বিশিষ্ট হাউস অব কমন্সে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে ১৭২ আসনে জিততে হয়। কার্নির লিবারেল পার্টি ১৬৯টি আসনে জিতে সংখ্যাগরিষ্ঠতা থেকে ৩টি আসনে পিছিয়ে আছে।
লিবারেলের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী কনজার্ভেটিভ দল ১৪৩টি আসনে বিজয়ী হয়েছে। আর ব্লক কুইবেক্স পেয়েছে ২৩টি, নিউ ডেমোক্র্যাটিক পার্টি (এনডিপি) ৭টি এবং গ্রিন পার্টি পেয়েছে মাত্র ১টি আসন।
নির্বাচনে কার্নির বিজয় প্রত্যাশিত ছিল। তফসিল ঘোষণার পর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান কর্তৃক পরিচালিত অধিকাংশ জনমত জরিপে লিবারেল পার্টির জয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছিলো।
নির্বাচনে বিজয়ের পর যেসব মানুষ কানাডাকে নিজেদের বাড়ি মনে করেন, তাঁদের সবার নেতা হওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে কার্নি বলেন, কানাডা কখনো যুক্তরাষ্ট্রের কাছে নতিস্বীকার করবে না।
কনজারভেটিভ পার্টির নেতা পিয়েরে পলিয়েভর তাঁর দলের পরাজয় মেনে নিয়ে বলেছেন, খুব সামান্য ব্যবধানে হলেও কার্নি সরকার গঠনের জন্য বিজয়ী হয়েছেন।
কোভিট-১৯ পরবর্তী সময়ে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়া ছাড়াও বাসস্থান সমস্যা ও স্বল্প সময়ে অনেক বেশি অভিবাসী কানাডাতে আসার কারণে জাস্টিন ট্রুডোর নেতৃত্বাধীন লিবারেল পার্টির জনপ্রিয়তায় ধ্বস নামে।
কনজারভেটিভ দল ২০২৫ সালের নির্বাচনে বিজয়ী হবে বলে বিভিন্ন জনমত জরিপের ফলাফলে আভাস দেয়া হতে থাকে। পরিস্থিতি সামাল দিতে লিবারেল পার্টির নেতাদের চাপে ট্রুডো পদত্যাগ করতে বাধ্য হলে মার্ক কার্নি হাল ধরেন। এরপর থেকেই জনমত দ্রুত বদলাতে শুরু করে।
প্রায় একই সময়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের শুল্কারোপ এবং কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম অঙ্গরাজ্য বানানোর ইচ্ছা প্রকাশের পর থেকে দুই মিত্র প্রতিবেশীর মধ্যে সম্পর্কের টানাপোড়েন শুরু হয়। এতে কানাডার নাগরিকদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয় এবং তাদের মধ্যে দেশপ্রেমের জোয়ার ওঠে। ফলে নির্বাচনের আগে পরিস্থিতি পুরোপুরি বদলে যায়।
লিবারেল দলের নতুন নেতা মার্ক কার্নি সাফল্যের সাথে এ পরিস্থিতি নিজের অনুকূলে আনতে সক্ষম হন। নির্বাচনী প্রচারে তিনি ট্রাম্পের বক্তব্যের জেরে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের ব্যাপক পরিবর্তন আনার প্রতিশ্রুতি দেন। এতে তাঁর প্রতি জনসমর্থন বেড়ে যায়।