ফার্মাসিস্টদের রোগী দেখার তালিকা আরো বাড়ানোর উদ্যোগ
স্টাফ রিপোর্ট
ফার্মাসিস্টদেরকে রোগীদের ছোটোখাটো সমস্যার ব্যবস্থাপত্র দেয়ার তালিকা আরো বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে অন্টারিও প্রাদেশিক সরকার। এছাড়া কিছু কিছু টিকা এবং স্বাস্থ্য পরীক্ষার ব্যবস্থাপত্র লেখার অনুমতিও দেয়া হতে পারে।
তবে স্বাস্থ্যখাতে অতিরিক্ত চাপ কমানোর পাশাপাশি ফার্মাসিস্টরা এ প্রস্তাবকে পেশাগত দক্ষতা বাড়ানোর সুযোগ হিসেবে বিবেচনা করলেও চিকিৎসকরা এ উদ্যোগে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
ফার্মাসিস্টদেরকে ২০২৩ সালের শুরুতে রোগীদের চোখ ওঠা, অর্শ্বরোগ, মূত্রনালির সমস্যাসহ ১৩ ধরণের ছোটোখাটো সমস্যা মূল্যায়ন ও ব্যবস্থাপত্র দেয়ার অনুমতি দেয় সরকার। একই বছর এ তালিকা বাড়িয়ে ব্রণ, মুখের দাগসহ আরো ছয় ধরণের সমস্যার ব্যবস্থাপত্র দেয়ার অনুমতি দেয়া হয়।
গত বছর বিকল্প এ ব্যবস্থা শুরু হওয়ার পর ফার্মাসিস্টরা এ যাবৎ ১০ লাখের বেশি রোগীর সমস্যা মূল্যায়ন করে সেগুলোর বিপরীতে ব্যবস্থাপত্র দিয়েছে।
সরকার এ তালিকাতে হালকা মাথা ব্যথা, ঠান্ডা লাগা, গলা ব্যথা, মাথায় উকুন ধরা, খুশকি ওঠা, আঁচিল, ঘুমের সাধারণ সমস্যা ছাড়াও আরো কিছু বিষয় যুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে।
রোগীদের এসব সমস্যার মূল্যায়ন ও ব্যবস্থাপত্র দিতে ফার্মাসিস্টদের জন্য কি ধরণের মানদণ্ড নির্ধারণ করা হবে সে বিষয় সম্পর্কে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে মতামত জানতে চাওয়া হয়েছে।
পাশাপাশি প্রাপ্ত বয়স্কদের করোনা ভাইরাস ছাড়াও টিটেনাস, ডিপথেরিয়া ও আরো কিছু টিকা দেয়ার দায়িত্ব ফার্মাসিস্টদেরকে দিয়ে এর জন্য পর্যাপ্ত অর্থায়ন করার বিষয়টিও বিবেচনা করছে সরকার।
স্বাস্থ্য মন্ত্রী সিলভিয়া জোনসের মুখপাত্র হানাহ জেনসন এক বিবৃতিতে বলেন, "প্রদেশের বিভিন্ন কম্যুনিটির মানুষের কাছে স্বাস্থ্য সেবা পৌঁছে দেয়ার বিষয়টিতে সরকার নজর দিতে চায়। আমরা দেখেছি এ উদ্যোগের ফলে ১০ লাখের বেশি মানুষকে সেবা দেয়া সম্ভব হয়েছে এবং এটা একটা বড়ো সাফল্য।"
অন্টারিও ফার্মাসিস্ট সমিতির প্রধান নির্বাহী জাস্টিন বেটস এ বিষয়ে বলেন, এখন পর্যন্ত রোগীদের ছোটোখাটো সমস্যা সমাধানে নেয়া উদ্যোগ যথেষ্ট সফল হয়েছে। এ সংক্রান্ত তালিকা আরো বাড়ানোর প্রস্তাব পারিবারিক চিকিৎসক ও জরুরি বিভাগের উপর চাপ কমাতে সহায়ক হবে।
তবে সরকারের এ উদ্যোগের বিরোধিতা করে অন্টারিও মেডিকেল এসোসিয়েশনের সভাপতি ডমিনিক নোয়াক বলেছেন, শেষ কথা হচ্ছে ফার্মাসিস্টরা তো আর চিকিৎসক নন। রোগীদের বিভিন্ন সমস্যার চিকিৎসা করতে ডাক্তারদের হাজার হাজার ঘন্টা ও অনেক বছরের প্রশিক্ষণ নিতে হয়। অনেক সময় ছোট কোনো সমস্যা আসলে বড়ো কোনো রোগের লক্ষণ মাত্র এবং এটা শুধু চিকিৎসকরাই বুঝতে পারে।