বিদেশি ছাত্রের অভাবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বাজেট ঘাটতি, কর্মী ছাঁটাই
স্টাফ রিপোর্ট
বিদেশি শিক্ষার্থীদের সংখ্যা সীমিত করার সরকারি সিদ্ধান্তে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে কানাডার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে। বিপুল বাজেট ঘাটতির মুখে লোকবল ছাঁটাই করা ছাড়াও বন্ধের আশংকা করা হচ্ছে কোনো কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।
কর্মকর্তারা বলছেন, শুধুমাত্র বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে এ বছর লোকসান হবে ৩০০ মিলিয়ন ডলার। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী কমে যাবার কারণে আগামী বছর এটা দ্বিগুন হতে পারে। অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তায় কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে খরচ কমানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এর ফলে বিপুল সংখ্যক জনবল ছাঁটাই হতে পারে, কমতে পারে সেবার মান।
উইন্ডসর বিশ্ববিদ্যালয় জানিয়েছে, চলতি বছরে প্রতিষ্ঠানটির ১০ মিলিয়ন ডলার বাজেট ঘাটতি রয়েছে। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী কমে যাবার কারণে আগামী বছর এ ঘাটতি ৩০ মিলিয়ন ডলার হতে পারে।
প্রতিষ্ঠানের ভাইস প্রেসিডেন্ট ক্লিনটন বেকফোর্ড জানান, "আমাদেরকে জনবল ছাঁটাই করতে হবে। কিছু কিছু এখনই, কিছু আগামীতে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সব বিভাগ থেকেই কর্মী ছাঁটাই হতে পারে।"
অটোয়ার কার্লটন বিশ্ববিদ্যালয় জানিয়েছে, চলতি আর্থিক বছরে ২৬ মিলিয়ন ডলার ঘাটতির হিসাব করা হয়েছিল। কিন্তু বিদেশী শিক্ষার্থী উল্লেখযোগ্য সংখ্যক কমে যাওয়ায় ঘাটতি অনেক বেড়ে যাবে।
অন্টারিও প্রদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কাউন্সিল সভাপতি ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা স্টিভ ওরসিনী বলেন, চলতি বছর এ প্রতিষ্ঠানগুলোতে ৩০০ মিলিয়ন ডলার লোকসান হবে এবং আগামী বছর এটা বেড়ে দ্বিগুন হতে পারে। ফলে নতুন নিয়োগ স্থগিত করে এখনকার লোকবল ছাঁটাই করতে হবে। এ কারণে শিক্ষার্থীদের জন্য বিভিন্ন সেবা কমে যেতে পারে।
অন্টারিওর বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বছরে গড়ে প্রায় ২০ শতাংশ বিদেশী শিক্ষার্থী ভর্তি হয়ে থাকে। ফেডারেল সরকার আগামী তিন বছরে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের অনুমোদন ৩ লাখ কমানোর ঘোষণা দিয়েছে। এছাড়া শিক্ষা বছর শেষে কোনো কোনো ক্ষেত্রে কাজ করার অনুমতি দেয়াও সীমিত করা হয়েছে।
কিংস্টন শহরের সেইন্ট লরেন্স কলেজ জানিয়েছে, প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক পদে ৩০ জন কর্মী ছাঁটাই করা হয়েছে এবং আরো ছাঁটাই হতে পারে। সরকারের নেয়া সিদ্ধান্তের কারণে এ প্রতিষ্ঠানে বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ৫০ শতাংশ কমেছে।
কলেজের প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী গ্লেন ভোলব্রেট বলেন, বর্তমানে এ প্রতিষ্ঠানে দক্ষতা মূল্যায়ন করা হচ্ছে। আগামী বছরের শুরুতে এ কাজ শেষ হবে। সেজন্য আরো ছাঁটাই হবে কি না সেটা এ মুহূর্তে নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না।
টরেন্টো শহরের সেনেকা পলিটেকনিকের একটি ক্যাম্পাস চলতি সেমিস্টার শেষে সাময়িক বন্ধ ঘোষণা করা হবে। সেনেকা এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, সরকারের সিদ্ধান্তের কারণে প্রতিষ্ঠানের মারখাম ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থী কমতে পারে। এটা বন্ধ হলে শিক্ষার্থীদের অন্য ক্যাম্পাসে সরিয়ে নেয়া হবে।
মোহাক কলেজের পরিচালক শন কফে বলেন, ২০২৫-২৬ শিক্ষাবছরে ৫০ মিলিয়ন ডলার বাজেট ঘাটতি হতে পারে। ফলে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক লোকবল ছাঁটাই হতে পারে। এককভাবে কোন বিভাগ নয় - সবক্ষেত্রেই এর প্রভাব পড়বে।
অটোয়ার এল্গোকুইন কলেজ জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী কমার কারণে প্রতিষ্ঠানের ৩২ মিলিয়ন ডলার লোকসান গুনতে হবে।
সরকারি সম্পর্ক এবং কলেজ ও প্রাতিষ্ঠানিক নীতি বিষয়ক পরিচালক মাইকেল ম্যাকডোনাল্ড বলেন, সরকারের এসব সিদ্ধান্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম ও জনবলের ওপর কতটা প্রভাব ফেলবে সেটা এখনই বলা সম্ভব নয়। তবে সামগ্রিকভাবে লক্ষণ ভালো নয়। কানাডার অর্থনীতিতে ২০২২ সালে বিদেশী শিক্ষার্থীদের অবদান ছিল ৩১ বিলিয়ন ডলার। এছাড়া শ্রম বাজারে ৩ লাখ ৬০ হাজার পদে তাদের অবদান ছিল।