কানাডা নতুন বছরে চাঙ্গা হবে শ্রম বাজার

নতুন বছরে চাঙ্গা হবে শ্রম বাজার


স্টাফ রিপোর্ট


নতুন বছরে কানাডার শ্রম বাজার চাঙ্গা হবে। বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আগামী জানুয়ারি থেকে শূন্য পদের পাশাপাশি অতিরিক্ত লোকবল নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু করবে বলে এক সমীক্ষায় জানা গেছে।

 

কানাডার নিয়োগ এবং কর্মসংস্থান বিষয়ক প্রতিষ্ঠান রবার্ট হাফ সম্প্রতি বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ওপর এক সমীক্ষা পরিচালনা করে। এতে বলা হয়েছে, চলতি বছরের দ্বিতীয়ার্ধের তুলনায় নতুন বছরে লোকবল নিয়োগ উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বাড়বে।

 

"প্রায় ৪৬ শতাংশ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নতুন বছরের প্রথমার্ধে অতিরিক্ত স্থায়ী লোকবল নিয়োগ দেবে বলে জানিয়েছে। এছাড়া ৪৯ শতাংশ প্রতিষ্ঠান শূন্য পদে নিয়োগ দেবে। নতুন বছরে ৫৪ শতাংশ প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন প্রকল্পের জন্য চুক্তিভিত্তিক পেশাজীবীর চাহিদা রয়েছে।"

 

এসব প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপকদের মধ্যে সমীক্ষা চালানো হলে, ৪৭ শতাংশ কর্মকর্তা জানান, নিয়োগের সিদ্ধান্ত মূলত: ব্যবসার প্রবৃদ্ধি বাড়ানোর জন্যই নেয়া হয়েছে। এছাড়া শূন্য পদের পাশাপাশি নতুন প্রকল্পের জন্য অতিরিক্ত লোকবল দরকার হবে বলে উল্লেখ করেন তাঁরা।

 

প্রতিষ্ঠানের আঞ্চলিক পরিচালক মাইক শেখতম্যান বলেন, "চাকুরী প্রত্যাশীরা তাদের পেশা সংক্রান্ত কলাকৌশল কাজে লাগিয়ে নতুন বছরে এ সুযোগ গ্রহণের প্রস্তুতি নিতে পারেন।"

 

উল্লেখ্য, কোভিড-১৯ পরবর্তী সময়ে শ্রম বাজারে লোকবল সংকট দেখা দিলে সরকারের উদার অভিবাসন নীতির আওতায় বিপুল সংখ্যক নতুন অভিবাসী আসে। কিন্তু সাময়িক এসব শূন্য পদের বিপরীতে জনবল বেশি হওয়ায় তীব্র প্রতিযোগিতার পাশাপাশি বেকারত্বও বেড়ে যায়।

 

পরিসংখ্যান বলছে, ২০২২ সালের মে মাসে কানাডায় শূন্য পদ ছিল ৫ দশমিক ৭ শতাংশ। কিন্তু ২০২৪ সালের মে মাসে শূন্য পদের হার কমে দাঁড়ায় ৩ দশমিক ৪ শতাংশে। অর্থাৎ কাজের চাহিদার বিপরীতে নিয়োগদাতাদের প্রয়োজন অনেক কম। এক হিসাবে, সাম্প্রতিক সময়ে আসা অভিবাসীদের প্রতি ৮ জনের মধ্যে ১ জন বেকার জীবন যাপন করছে।

 

এছাড়া উচ্চ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কানাডার কেন্দ্রীয় ব্যাংক ২০২২ সালের মার্চ থেকে ২০২৩-এর জুলাই পর্যন্ত ১০ দফায় সুদের হার বাড়িয়ে পাঁচ শতাংশে নিয়ে আসে। উচ্চ সুদের কারণে ব্যবসা পরিচালনা খরচ বেড়ে গেলে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান নতুন নিয়োগ বন্ধ রাখার পাশাপাশি অনেক ক্ষেত্রেই লোকবল ছাঁটাই করতে বাধ্য হয়।

 

চলতি বছরের জুন থেকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদের হার কয়েক দফা কমিয়ে ডিসেম্বরে তিন দশমিক ২৫ শতাংশে নিয়ে আসে। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আসায় নতুন বছরে সুদের হার আরো কমতে পারে বলে ধারণা করছে বিশ্লেষকেরা।