ট্রুডোর আমলে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান দুর্বল হয়েছে
স্টাফ রিপোর্ট
জাস্টিন ট্রুডোর শাসনামলে কানাডার গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর মানুষের আস্থা নষ্ট হয়েছে এবং এটা পুনরুদ্ধার করা অপরিহার্য হয়ে পড়েছে বলে সরকারি তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কানাডার রাজনীতিতে বৈদেশিক হস্তক্ষেপের বিষয়ে ট্রুডোর লিবারেল সরকার যথেষ্ট স্বচ্ছ ছিল না। গত দু'টি নির্বাচনে চীন এবং ভারতের হস্তক্ষেপ প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে অনেক বেশি কালক্ষেপন করা হয়েছে।
বিচারপতি ম্যারি হোসে হোগের নেতৃত্বে গঠিত এ কমিশন কানাডার নির্বাচনী ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে চূড়ান্ত প্রতিবেদনে ৫১টি সুপারিশ করেছে। বিচারপতি হোগ বলেন, “আস্থা পুনরুদ্ধার করতে সরকারের প্রচেষ্টা যথেষ্ট নয় এবং অনেকটা দায়সারা রকমের। অর্ধেক সুপারিশ দ্রুতই বাস্তবায়ন করা উচিত এবং সেটা আগামী নির্বাচনের আগেই।”
উল্লেখ্য, কানাডার ২০১৯ এবং ২০২১ সালের নির্বাচন দু'টিতে চীন সরকারের হস্তক্ষেপ এবং এর ফলে লিবারেল পার্টির সুবিধা পাওয়ার অভিযোগ উঠলে জাস্টিন ট্রুডোর সরকার প্রথমদিকে এ বিষয়ে তদন্ত করার কঠোর বিরোধিতা করেছিল। কিন্তু গ্লোব এন্ড মেইল এবং গ্লোবাল নিউজ টেলিভিশনে গোয়েন্দা প্রতিবেদন ফাঁস হওয়ার পর সরকার এ বিষয়ে নমনীয় হতে বাধ্য হয়।
বৈদেশিক শক্তি কিভাবে কানাডার গণতান্ত্রিক পদ্ধতির দুর্বলতার সুযোগ নিয়েছে তার বিস্তারিত বর্ণনা উঠে এসেছে দীর্ঘ গণশুনানি, প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য এবং গোয়েন্দা প্রতিবেদনে। এসব দুর্বলতার মধ্যে রাজনৈতিক দল পরিচালনায় স্বচ্ছতার অভাব, দলের প্রার্থী নির্বাচনে দুর্বল নিয়ম কানুন এবং যথেষ্ট তদারকির ব্যবস্থা না থাকা অন্যতম।
চাইনিজ প্রবাসী অধ্যুষিত টরেন্টোর একটি নির্বাচনী এলাকায় মি: হ্যান ডং লিবারেল পার্টি থেকে মনোনয়ন পাওয়ার প্রতিযোগিতায় যোগ দেন। হ্যান ডং বেইজিংয়ের পছন্দের প্রার্থী ছিলেন। তাঁর সমর্থনে চাইনিজ ছাত্ররা দলে দলে কাজ করে।
বিশেষ সংসদীয় কমিটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, চাইনিজ কনস্যুলেট ছাত্রদের জানিয়ে দেয় তারা তাদের ভিসা রক্ষা করতে চাইলে মি: ডং-কে সমর্থন করতে হবে। মি: ডং লিবারেল পার্টি থেকে মনোনয়ন পাওয়ার পর সাধারণ নির্বাচনেও জয়লাভ করেন।
টরেন্টো এবং ভ্যাঙ্কুভারের কয়েকটি নির্বাচনী এলাকা চীন এবং ভারতীয় প্রবাসী অধ্যুষিত এবং নির্বাচনে প্রভাব বিস্তার করার মতো যথেষ্ট সুসংগঠিত। এসব এলাকায় কিছু কিছু প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে সমর্থন কিংবা বিরোধিতা করার মাধ্যমে চীন এবং ভারত ২০১৯ ও ২০২১ সালের নির্বাচনে কিভাবে তাদের স্বার্থ রক্ষা করেছে তার বর্ণনা দেয়া হয়েছে প্রতিবেদনে।
গণশুনানিতে উল্লেখ করা হয়েছে, চীন এবং তাদের স্থানীয় প্রতিনিধিরা কনজারভেটিভ পার্টির বিরোধিতা করেছিল। কনজারভেটিভ পার্টি চীনের মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং হংকংয়ের ওপর তাদের নিয়ন্ত্রণের কঠোর বিরোধী। গোয়েন্দা প্রতিবেদন অনুযায়ী, চীন সরকার এবং তাদের প্রতিনিধিরা ট্রুডোর লিবারেল পার্টির প্রার্থীদের সমর্থন করেছিল।
তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, হাতে গোনা কিছু আসনের ফলাফল বিদেশী হস্তক্ষেপের মাধ্যমে প্রভাবিত হলেও নির্বাচনের সামগ্রিক ফলাফলে এর কোন প্রভাব পড়েনি।
চূড়ান্ত প্রতিবেদনে বিচারপতি হোগ বলেন, কোন বিশেষ এলাকার মনোনয়ন প্রতিযোগিতা বা নির্বাচনের ফলাফলে বিদেশী হস্তক্ষেপের প্রভাব থাকলেও তা ছিল বিচ্ছিন্ন ঘটনা। তবে তিনি আশ্বস্ত হয়েছেন এখন পর্যন্ত এর প্রভাব ন্যূনতম।
ডেমোক্রেসি ওয়াচের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ডাফ কোনাচের বলেন, চূড়ান্ত প্রতিবেদনে বিদেশী হস্তক্ষেপের বিষয়কে যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হয়নি। কেননা অনেক কিছুই অজানা রয়ে গেছে।