প্রধানমন্ত্রী হিসেবে কার্নির শপথ গ্রহণ
স্টাফ রিপোর্ট
লিবারেল পার্টির নেতা মার্ক কার্নি কানাডার ২৪তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন।
কার্নির শপথের মধ্য দিয়ে জাস্টিন ট্রুডোর প্রায় সাড়ে ৯ বছরের শাসনের অবসান ঘটলো। ট্রুডো শুক্রবার ১৪ মার্চ সকাল ১০টায় গভর্নর জেনারেল মেরি সাইমনের সঙ্গে দেখা করে পদত্যাগপত্র জমা দেন।
শপথ গ্রহণের পর মন্ত্রী পরিষদ গঠনের মাধ্যমে কার্নি সরকার প্রধান হিসেবে তাঁর কাজ শুরু করেন। কার্নি ৯ মার্চ লিবারেল দলের নেতা নির্বাচিত হন।
লিবারেল পার্টির নেতা এবং প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে ট্রুডো ৬ জানুয়ারি পদত্যাগ করার ঘোষণা দেন। জনপ্রিয়তা কমতে থাকায় ক্ষমতা থেকে সরে দাঁড়ানোর জন্য দলের ভেতর থেকে তিনি দীর্ঘদিন চাপের মুখে ছিলেন।
শপথ গ্রহণের পর কার্নি সংবাদকর্মীদের বলেন, "দেশের বর্তমান সংকটময় এই সময়ে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।"
কার্নি ২০০৮ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত কানাডার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এবং ২০১৩ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত ব্যাংক অফ ইংল্যান্ডের গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
কানাডার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর হিসেবে তিনি ২০০৮ সালের অর্থনৈতিক সংকট কাটিয়ে উঠতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তৎকালীন রক্ষণশীল সরকার তাঁকে অর্থমন্ত্রী হবার প্রস্তাব দিলেও তিনি আগ্রহ দেখাননি।
পরে যুক্তরাজ্যের নাগরিক না হওয়া সত্ত্বেও সে দেশের সরকার তাঁকে ব্যাংক অফ ইংল্যান্ডের গভর্ণর হিসেবে নিয়োগ দেয়। ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন থেকে যুক্তরাজ্যের বের হয়ে আসার সময় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন তিনি।
কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের অন্তর্ভুক্ত হবার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের হুমকির পাশাপাশি চলমান বাণিজ্য যুদ্ধ মোকাবিলা করা হবে কার্নির অন্যতম কঠিন পরীক্ষা। এছাড়া আগামী জাতীয় নির্বাচনে ট্রুডোর নেতৃত্বাধীন পিছিয়ে থাকা দলকে টেনে তোলা ছাড়াও আবাসিক সংকট দূর করা এবং জীবন যাপনের ব্যয় নিয়ন্ত্রণে আনাও হবে তাঁর প্রধান চ্যালেঞ্জগুলোর অন্যতম।
আবাসিক সংকট, দ্রব্যমূল্যের উর্ধগতির পাশাপাশি গত কয়েক বছরে অভিবাসীর সংখ্যা দ্রুত বেড়ে যাওয়ায় জাস্টিন ট্রুডোর জনপ্রিয়তা তলানিতে ঠেকেছিল।