কানাডিয়ান নাগরিকদের দেশ ছাড়ার সংখ্যা বাড়ছে
ডেস্ক রিপোর্ট
জীবন যাপনের ব্যয় বেড়ে যাওয়া এবং নতুন অভিবাসীদের শিক্ষাগত যোগ্যতা মূল্যায়ন না হওয়ার কারণে কানাডা ছেড়ে চলে যাওয়া মানুষের সংখ্যা ক্রমে বেড়েই চলেছে।
পরিসংখ্যান কানাডার হিসাব অনুযায়ী, ২০১৬ সালে কানাডার প্রায় ৪০ লাখ মানুষ বিদেশে বসবাস করতো যা মোট জনসংখ্যার ১১ শতাংশ। এ সংখ্যা ১৯৯০ সালে বিদেশে বসবাস করা জনসংখ্যার চেয়ে ৩৬ শতাংশ বেশি। সরকারি এ সংস্থার গবেষণায় দেখা গেছে, প্রায় ১৫ শতাংশ অভিবাসী ২০ বছরের মধ্যে কানাডা ছেড়ে নিজ বা অন্য কোন দেশে চলে যায়।
বিদেশে কানাডার নাগরিকদের বসবাস করার বিষয়ে যথেষ্ট তথ্য উপাত্ত না থাকলেও সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, এদের ৫১ শতাংশ বংশ পরস্পরায় কানাডার নাগরিক, ৩৩ শতাংশ জন্মসূত্রে এবং বাকি ১৫ শতাংশ অভিবাসী হয়ে এদেশে আসার পর নাগরিক হয়েছিলেন।
সিনেটর ইউয়েন পাও উ-এর পৃষ্ঠপোষকতায় ম্যাকগিল ইনস্টিটিউট ফর দ্যা স্টাডি অব কানাডা এ প্রতিবেদন তৈরী করে বলেছে, জীবন যাপনের ব্যয় বেড়ে যাওয়া এবং নতুন অভিবাসীদের শিক্ষাগত যোগ্যতা মূল্যায়ন না হওয়ার কারণে কানাডা ছেড়ে চলে যাওয়া মানুষের সংখ্যা সম্ভবত বেড়ে চলেছে।
এশিয়া প্যাসিফিক ফাউন্ডেশন অফ কানাডার এক হিসাবে, দেশের বাইরে সবচেয়ে বেশি কানাডিয়ান নাগরিক বসবাস করছে যুক্তরাষ্ট্র। এরপরের দেশগুলো হচ্ছে হং কং, যুক্তরাজ্য এবং অস্ট্রেলিয়া। এছাড়া পূর্ব এশিয়ার দেশগুলো যেমন - দক্ষিণ কোরিয়া, চীন এবং জাপানও আছে প্রথম ১০টির মধ্যে।
আগামীতে বিদেশে বসবাস করা কানাডিয়ান নাগরিকদের সংখ্যা বাড়তে পারে, একথা উল্লেখ করে ম্যাকগিলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কানাডা এ জনসংখ্যার দিকে খুব একটা মনোযোগ বা তাদের প্রতি কোন ধরণের সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয়নি। কানাডাতে বসবাস না করলে স্বাস্থ্য সেবা, সরকারি ভাতা না পাওয়া এবং ভোট দেয়ার অধিকার না থাকা প্রমাণ করে বিদেশে বসবাসকারী জনসংখ্যার সাথে দেশটির সম্পর্ক কেমন।
সরকারি ভাতা ও স্বাস্থ্য সেবা ছাড়াও বিদেশে কূটনৈতিক মিশনের মাধ্যমে এ জনসংখ্যার জন্য সহযোগিতা নিশ্চিত করতে নীতি প্রণয়ন করার পরামর্শ দেয়া হয়েছে প্রতিবেদনে। সিনেটর পাউ এসব নাগরিকদের সহযোগিতা করতে সরকারের প্রতি কৌশল নির্ধারণের আহবান জানিয়েছেন।