অর্থনৈতিক মন্দার দিকে যাচ্ছে কানাডা
স্টাফ রিপোর্ট
অর্থনীতি মন্দার দিকে যাচ্ছে বলে কানাডার বৃহৎ আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো উল্লেখ করেছে। চলতি বছরের দ্বিতীয় ও তৃতীয় প্রান্তিকে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নেতিবাচক হবে বলে আশংকা করছে এসব প্রতিষ্ঠান।
টিডি ব্যাংক, বিএমও, ন্যাশনাল ব্যাংক, ডেলয়েট তাদের প্রতিবেদনে এবং ব্লুমবার্গের জরিপে অর্থনীতিবিদরা বলছেন, দেশ অর্থনৈতিক মন্দার প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। বেকারত্ব বাড়া, মানুষের ক্রয় ক্ষমতা ও রফতানি কমে যাওয়া এবং ব্যবসা-বাণিজ্যে বিনিয়োগ বন্ধ থাকার পাশাপাশি অনিশ্চয়তার পরিবেশ অর্থনৈতিক মন্দার লক্ষণ।
ডালহৌসি বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থিনীতির অধ্যাপক লারস অসবার্গ বলেন, “কানাডার অর্থনীতি হয়তো মন্দার মধ্যেই রয়েছে। কেননা প্রবৃদ্ধি দিয়ে সবসময় অর্থনীতির প্রকৃত অবস্থা বোঝা যায় না।”
তিনি বলেন, বেকারত্ব বেড়েই চলেছে, শ্রম বাজারের চিত্র নিম্নমুখী এবং গড় আয় কমছে। এরকম পরিস্থিতি এখানে বেশ আগে থেকেই চলছে। এর সাথে বাণিজ্য যুদ্ধের কারণে পরিস্থিতি আরো নাজুক হয়ে পড়েছে।
টিডি ব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ বেটা কারানসী বলেছেন, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান গত দু'মাসে প্রায় ৭৫ হাজার কর্মী ছাঁটাই করেছে এবং এর অর্ধেকই উৎপাদনশীল খাতে। শুল্ক বাঁধা কানাডার অর্থনীতিকে মন্দার দিকে নিয়ে যাচ্ছে এবং এর ফলে আরো প্রায় এক লাখ মানুষ চাকুরী হারাতে পারে। সুতরাং ভয়টা অমূলক নয়, যথেষ্ট কারণ রয়েছে।
পরিসংখ্যান কানাডার হিসাবে, এ বছরের এপ্রিল মাস পর্যন্ত বেকারত্বের হার ছিল ৬ দশমিক ৯ শতাংশ অর্থাৎ এ সময়ে প্রায় ১৫ লাখ মানুষ বেকার হয়ে পড়ে।
টিডি ব্যাংক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি দ্বিতীয় প্রান্তিকে এক শতাংশ এবং তৃতীয় প্রান্তিকে দশমিক দুই শতাংশ কমতে পারে বলে আশংকা করছে। বিএমও উভয় প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধি এক শতাংশ কমবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে।
ন্যাশনাল ব্যাংক বলছে, প্রবৃদ্ধি দ্বিতীয় প্রান্তিকে ১.১ শতাংশ এবং তৃতীয় প্রান্তিকে এক শতাংশ কমতে পারে। আর ডেলয়েট বলছে, প্রবৃদ্ধি দ্বিতীয় প্রান্তিকে ১.১ শতাংশ এবং তৃতীয় প্রান্তিকে দশমিক নয় শতাংশ কমতে পারে।
এছাড়া ব্লুমবার্গের এক জরিপে অর্থনীতিবিদরা বলেছেন, কানাডা অর্থনৈতিক মন্দার প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। বেকারত্ব বাড়ার পাশাপাশি বাণিজ্য যুদ্ধের কারণে এ বছর রফতানি প্রায় সাড়ে ৭ শতাংশ কমতে পারে। ফলে বাৎসরিক হিসাবে অর্থনীতি দ্বিতীয় প্রান্তিকে এক শতাংশ এবং তৃতীয় প্রান্তিকে দশমিক এক শতাংশ সংকুচিত হতে পারে।
আগামী বছরের শুরুতে অর্থনীতি ইতিবাচক ধারায় ফিরতে পারে বলে এসব প্রতিষ্ঠান ধারণা করছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাবেক গভর্নর স্টিফেন পলোজ গত ডিসেম্বরে এক সেমিনারে বলেন, কানাডাতে বর্তমানে অর্থনৈতিক মন্দা চলছে। কিন্তু জনসংখ্যা দ্রুত বাড়ার কারণে অর্থনীতির এই দুর্বলতা সেভাবে বোঝা যাচ্ছে না।
সাধারণত পর পর দুই প্রান্তিকে ঋণাত্মক প্রবৃদ্ধি হলে সেটাকে অর্থনৈতিক মন্দা হিসেবে বিবেচনা করা হয়, এ কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “এটা ঠিক আমাদের এখানে সেটা হয়নি। এর প্রধানতম কারণ হচ্ছে সাম্প্রতিক সময়ে অনেক বেশি অভিবাসী এসেছে এবং মৌলিক চাহিদা মেটাতে তাদেরকে ব্যয় করতে হচ্ছে। এর ফলে এখানে পণ্যের যথেষ্ট চাহিদা তৈরী হয়েছে।”