কানাডা গাড়ি চুরিতে শীর্ষ দশে কানাডা

গাড়ি চুরিতে শীর্ষ দশে কানাডা


বিশেষ প্রতিনিধি


গাড়ি চুরিতে শীর্ষ ১০টি দেশের তালিকায় এখন অন্যতম নাম কানাডা। প্রতি বছর এক লাখেরও বেশি চুরি হওয়া গাড়ির বড় অংশ বিদেশে পাচার করে অর্জিত অর্থ মাদক ও মানব পাচার এবং সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে ব্যবহার করছে অপরাধী চক্র।

 

আন্তর্জাতিক সংস্থা ইন্টারপোল জানাচ্ছে, বিশ্বের ১৩৭টি দেশের সাথে সংস্থাটি গাড়ি চুরি সংক্রান্ত তথ্য বিনিময় করে থাকে এবং এ তালিকায় বর্তমানে কানাডা শীর্ষ ১০টি দেশের একটি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গত ফেব্রুয়ারি থেকে ইন্টারপোলের সাথে গাড়ি চুরি সংক্রান্ত তথ্য বিনিময় শুরু করার পর বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রায় ১৫০০ গাড়ি উদ্ধার করা হয়েছে।

 

সরকারি হিসাবে, দেশে সব মিলিয়ে বর্তমানে বছরে প্রায় ৯০ হাজার গাড়ি চুরি হয়ে থাকে। কিন্তু ইন্সুরেন্স ব্যুরো অব কানাডা বলছে, শুধুমাত্র ২০২২ সালে সারাদেশে ১০৫,০০০ গাড়ি চুরি হয়েছে। বীমা কোম্পানিগুলোকে এ বাবদ ১২০ কোটি ডলার পরিশোধ করতে হয়েছে যা ২০১৮ সালের চেয়ে তিনগুন বেশি। এর মধ্যে শুধু অন্টারিওতে পরিশোধ করা হয়েছে ৭০ কোটি ডলার।

 

গাড়ি চুরি এখন কানাডার অন্যতম জাতীয় সমস্যা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সমস্যা সমাধানে গত ফেব্রুয়ারিতে প্রাদেশিক সরকার, গাড়ি নির্মাতা ও বীমা কোম্পানির প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে অটোয়াতে একটি জাতীয় সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। প্রতিনিধিদের বিভিন্ন সুপারিশ বিবেচনায় নিয়ে সরকার এ সংক্রান্ত আইন কঠোর করার উদ্যোগ নিয়েছে।

 

ইন্টারপোল বলছে, দামি এবং জনপ্রিয় গাড়ির সহজ প্রাপ্যতার কারণে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চোরাই গাড়ি সরবরাহের অন্যতম উৎস দেশে পরিণত হয়েছে কানাডা। এসব গাড়ির বেশির ভাগ মধ্যপ্রাচ্য ও পশ্চিম আফ্রিকার দেশগুলোতে পাচার করে পুনরায় বিক্রি বা অন্য পণ্যের সাথে বিনিময় মূল্য হিসেবে লেনদেন করা হয়ে থাকে। আন্তর্জাতিক অপরাধী চক্র মাদক ও মানব পাচার এবং সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে চোরাই গাড়ি এক ধরণের মুদ্রা হিসেবে ব্যবহার করে থাকে।

 

গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের মতে, গাড়ি চুরি ও পাচারের সাথে অবৈধ মাদক ব্যবসার অনেক মিল রয়েছে। মাদকের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক চোরাকারবারে নিয়োজিত ব্যক্তিদের সহযোগিতায় এসব পণ্য দেশে ঢোকে এবং পরবর্তীতে ছোট ছোট ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে সেগুলো ভোক্তাদের কাছে পৌঁছায়। আর গাড়ির ক্ষেত্রে ছোট ছোট দল চুরির সাথে জড়িত। পরবর্তীতে মধ্যস্বত্বভোগী কিছু লোকের সহযোগিতায় গাড়ি সনাক্তকরণসহ সূক্ষ্ণ কিছু পরিবর্তনের পর সেগুলো চোরাকারবারে সংশ্লিষ্টদের মাধ্যমে বিভিন্ন দেশে চলে যায়।

 

চোরাই গাড়ি উদ্ধার করা ছাড়াও অন্যান্য জালিয়াতি রোধে বীমা কোম্পানিগুলোকে সহযোগিতা করে আসছে অলাভজনক সংস্থা একোইত এসোসিয়েশন। বীমা কোম্পানিগুলোর পক্ষে সংস্থাটি পুলিশের সহযোগিতায় চোরাই গাড়ি উদ্ধারে বিশেষ ভূমিকা রাখছে। সাম্প্রতিক সময়ে একোইত এসোসিয়েশন স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় ঘানা, বেলজিয়াম, ইতালি, মরক্কো এবং মালটা থেকে গাড়ি উদ্ধার করে ফেরত এনেছে।

 

এসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি এবং সাবেক প্রাদেশিক পুলিশ কর্মকর্তা ব্রায়ান গাস্ট বলেন, গাড়ি চুরি এখন সাধারণ কোন বিষয় নয়। এটা সংঘবদ্ধ অপরাধ এবং সংঘবদ্ধ চক্রকে অর্থায়ন করতে গাড়ি চুরি হচ্ছে। যে ধরণের কাজের মাধ্যমে তুলনামূলকভাবে কম ঝুঁকিতে বেশি টাকা পাওয়া যায়, এসব চক্রের কাছে সেটা অত্যন্ত আকর্ষণীয় এবং গাড়ি চুরির ক্ষেত্রে এটাই হচ্ছে।

 

তিনি বলেন, চুরি গাড়ির একটি বড় অংশ মন্ট্রিয়েল বন্দর দিয়ে পাচার হয়ে থাকে। মন্ট্রিয়েল খুবই ব্যস্ত বন্দর এবং সেখানে চুরি করা গাড়ি ট্রেন বা ট্রাকে নেয়া হয়। এ বন্দরে এতো বেশি কন্টেইনার আসা-যাওয়া করে যে প্রতিটি কন্টেইনার পরীক্ষা করা সম্ভব হয় না।

 

পুলিশ বলছে, মাত্র তিন থেকে পাঁচ মিনিটের মধ্যে সংঘবদ্ধ দল গাড়ি নিয়ে পালিয়ে যেতে সক্ষম। চুরির পর গাড়ির এতটাই পরিবর্তন করা হয় যে, ঐ গাড়ি পরবর্তীতে সনাক্ত করা খুব কঠিন।