বাংলাদেশ প্রবাসীদের ভোটে একমত হলেও পদ্ধতি নিয়ে দ্বিমত

প্রবাসীদের ভোটে একমত হলেও পদ্ধতি নিয়ে দ্বিমত


স্টাফ রিপোর্ট


আগামী নির্বাচনে প্রবাসীদের ভোট দেয়ার বিষয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল একমত হলেও পদ্ধতি নিয়ে দ্বিমত রয়েছে। নির্বাচন কমিশনের ‘প্রক্সি ভোটিং’ নিয়ে আগ্রহ রয়েছে। তবে কয়েকটি রাজনৈতিক দল এতে ‘ত্রুটি’ থাকার কথা উল্লেখ করেছে।

 

প্রবাসীদের ভোটের পদ্ধতি নির্ধারণ করতে রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, গণমাধ্যম ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের উপস্থিতিতে আয়োজিত এক সেমিনারে পদ্ধতি নিয়ে দ্বিমত এবং ‘প্রক্সি ভোটিং’-এর বিষয়গুলো উঠে আসে। বিএনপি, জামায়াত, এনসিপিসহ ২১টি দলের প্রতিনিধি এ সেমিনারে অংশ নেন।

 

রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবন মিলনায়তনে ২৯ এপ্রিল প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য ‘ভোটিং সিস্টেম উন্নয়ন’ শিরোনামের আয়োজিত এ সেমিনারে সম্ভাব্য তিনটি পদ্ধতি - প্রক্সি ভোটিং, অনলাইন ভোটিং এবং পোস্টাল ব্যালট - সম্পর্কে বিস্তারিত উপস্থাপন করা হয়।

 

প্রক্সি ভোট পদ্ধতিতে একজন প্রবাসী বাংলাদেশির পক্ষে দেশে অবস্থানরত অন্য একজন সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকায় ভোট দিতে পারবেন। নির্বাচন কমিশনের মতে, সম্ভাব্য তিন পদ্ধতির মধ্যে প্রক্সি ভোটই একমাত্র পদ্ধতি, যেটা ন্যূনতম সময়ের মধ্যে আয়োজন করা সম্ভব।

 

সেমিনারে উদ্বোধনী বক্তব্যে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেন, “আমরা পরবর্তী নির্বাচনে অন্তত শুরু করতে চাই। অন্তত যাত্রা শুরু হোক। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ শুরু করে আবার এগুতে পারেনি। অনেক দেশ চালু করেছে, অনেকে চালু করতে পারেনি।”

 

তিনি বলেন, “আমরা যখন দায়িত্ব নিই, প্রথম থেকেই আগামী নির্বাচনে প্রবাসীদের ভোট চালু করার বিষয়ে উদ্যোগী হই। আমরা ওয়াদাবদ্ধ, প্রবাসীদের ভোটের বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টাও জাতির কাছে একই ওয়াদা করেছেন।” রাজনৈতিক দলগুলোর সমর্থন না পেলে এ ব্যাপারে নির্বাচন কমিশনের সব উদ্যোগ ব্যর্থ হবে বলে উল্লেখ করেছেন সিইসি।

 

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, প্রবাসীদের ভোটাধিকার প্রয়োগ নিশ্চিত করতে কেবল জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) নয়, পাসপোর্টও বিবেচনায় নিতে হবে। কেননা অনেকের এনআইডি নেই।

 

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, নতুন রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), এবি পার্টি, গণঅধিকার পরিষদসহ কয়েকটি দল প্রক্সি ভোটিং পদ্ধতির ‘প্রক্সি’ বাছাই, পছন্দের প্রতীকে ভোট ও নিরাপত্তার বিষয়গুলো তুলে ধরে।

 

এনসিপি'র যুগ্ম আহ্বায়ক খালেদ সাইফুল্লাহ বলেন, “প্রক্সি ভোটের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হলো ‘ট্রাস্ট’। এটা বজায় রাখতে হবে। সবার যেন ট্রাস্ট থাকে, সেটা অনলাইন হোক, আর পোস্টাল হোক। প্রক্সি নিয়ে আমাদের সন্দেহ আছে। সেটা দলীয় ফোরামে আলোচনা করে জানাব।”

 

বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন বলেন, “অনলাইন, প্রক্সি ও পোস্টাল- তিনটি পদ্ধতিরই সুবিধা-অসুবিধা আছে। তবে দলগুলো নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে পারে।”

 

সেমিনারে বিভিন্ন পরামর্শ দেয়া হলেও ভোটের পদ্ধতি নির্ধারণ করার বিষয়ে বিভিন্ন দলকে ১৫ মে'র মধ্যে মতামত লিখিতভাবে পাঠানোর অনুরোধ জানানো হয়।

 

নির্বাচন কমিশন প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি উপদেষ্টা কমিটি গঠন করেছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় ও এমআইএসটি পদ্ধতি তিনটির বিষয়ে আলাদা আলাদা প্রতিবেদন জমা দিয়েছে কমিশনে।