বাংলাদেশের সহিংস ঘটনায় কানাডার গভীর উদ্বেগ
ডেস্ক রিপোর্ট
ছাত্র বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের সহিংস ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধানে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে একসাথে কাজ করার আহবান জানিয়েছে কানাডা।
কানাডার পররাষ্ট্র মন্ত্রী মেলানী জোলি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) এক পোস্টে বলেন, "বাংলাদেশে বিক্ষোভ চলার পর যেসব সহিংস ঘটনা ঘটেছে তাতে কানাডা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধানের পাশাপাশি আর যেন সহিংস ঘটনা না ঘটে সেজন্য আমরা সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে আহবান জানাই।"
কানাডার জাতীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রী বিল ব্লেয়ার বাংলাদেশে চলমান সহিংস ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, ছাত্র বিক্ষোভে আক্রমণ করা এবং প্রাণহানির ঘটনা গ্রহণযোগ্য নয়।
তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে এক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, “আমি বাংলাদেশের চলমান সহিংস ঘটনায় অত্যন্ত উদ্বিগ্ন। ছাত্রদের বিক্ষোভে আক্রমণ করা এবং এর ফলে প্রাণহানির ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। এটা কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। গণতান্ত্রিক অধিকার এবং আইনের শাসন খুবই জরুরি এবং অবশ্যই মেনে চলতে হবে।"
এদিকে, ঢাকাস্থ কানাডীয় হাই কমিশন ২৫ জুলাই এক বিবৃতিতে বলেছে, “গত সপ্তাহে ছাত্র আন্দোলন চলাকালীন সময়ে সাধারণ মানুষ যে সহিংসতার শিকার হয়েছে তাতে আমরা মর্মাহত। এসব ঘটনায় হতাহত ও তাঁদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি। আমরা সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধান এবং মানবাধিকারের প্রতি সন্মান জানানোর আহবান জানাচ্ছি।"
“জনসমাবেশ ও মত প্রকাশের অধিকার সমুন্নত রাখা অত্যন্ত জরুরি। সময় ক্ষেপন না করে অবিলম্বে ইন্টারনেট সেবা পুরাপুরি চালু করার আহবান জানাই। প্রয়োজনীয় তথ্য পাওয়া এবং কানাডা ছাড়াও বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নিকটজনের সাথে যোগাযোগ করার জন্য সাধারণ মানুষ এর প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছে।
গ্রেফতাকৃতদেরকে বিচার ব্যবস্থার আওতায় আনতে অবশ্যই যথাযথ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে এবং এই দুঃখজনক ঘটনার জন্য দায়ী সবাইকে জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। আমরা বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে যাচ্ছি।
উল্লেখ্য, জুলাই মাসের শুরু থেকে ছাত্ররা কোটা বাতিলের আন্দোলন শুরু করলেও পরে তা কোটা সংস্কারের এক দফা দাবিতে পরিণত হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে। ছাত্র আন্দোলনের বিভিন্ন কর্মসূচি পালনের এক পর্যায়ে সহিংস ঘটনা ঘটতে শুরু করে।
সহিংসতা তীব্র আকার ধারণ করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। সংঘাতে প্রায় এক সপ্তাহে দুই শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে। সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে সরকার ১৯ জুলাই রাত ১২টা থেকে সারাদেশে কারফিউ জারি করে। দিনে কারিফিউ শিথিল থাকলেও বিকাল থেকে এখনো সান্ধ্য আইন বলবৎ রাখা হচ্ছে।