বুধবার, 19 জুন 2024

সন্ত্রাসী চক্রের অভয়ারণ্য কানাডার আবাসন খাত

বুধবার, 29 ডিসেম্বর 2021 00:00
ফিডব্যাক দিন
(0 votes)

নিজস্ব প্রতিবেদক

 

আন্তর্জাতিক অপরাধী চক্র তাদের কর্মকাণ্ডে তহবিল যোগাতে কানাডার লাভজনক আবাসন খাতকে অবৈধভাবে ব্যবহার করছে। এ কাজে স্থানীয় নাগরিকদের পাশাপাশি বিভিন্ন দাতব্য সংস্থা এবং বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ব্যবহার করার প্রমান পাওয়া গেছে। প্রচলিত আইনের ফাঁক গলে আবাসন খাতকে মুদ্রা পাচার এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে ব্যবহার দেশটির অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি করেছে। প্যারিস-ভিত্তিক একটি আন্তর্জাতিক সংস্থা সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে এসব মন্তব্য করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ফেডারেল সরকারকে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেয়ার আহবান জানিয়েছে।

 

আবাসন খাত ছাড়াও দাতব্য সংস্থা ও জীবন বীমাকে ঝুঁকিপূর্ণ খাত হিসেবে চিহ্নিত করে বলা হয়েছে এসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সন্ত্রাসী চক্র বিনিয়োগ ও আর্থিক লেনদেনের মতো বিষয়গুলো নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে পারছে। দেশী-বিদেশী চক্র নাগরিকদের বাড়ী কিনতে নগদ অথবা নিরাপদ প্রকল্পের মাধ্যমে ঋণ সহায়তা দিচ্ছে। নগদ বা গৃহঋণের অর্থ আইনজীবীদের (ট্রাস্ট) একাউন্টের মাধ্যমে অত্যন্ত নিরাপদে স্থানান্তর করা সম্ভব বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

“কোম্পানী ও ট্রাস্ট গঠন করে ঝুঁকিপূর্ণ খাতগুলোতে বিনিয়োগ এবং আবাসন খাতের সার্বিক প্রক্রিয়ায় আইনজীবীদের মুখ্য ভূমিকা পালন দেশটির জন্য মুদ্রা পাচার রোধে কার্যকর ভূমিকা নেয়া অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে।“ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মক্কেলদের পক্ষে নেয়া আইনজীবীদের কর্মকাণ্ড আইন প্রয়োগকারী সংস্থা তদন্ত করতে পারে না এবং এ কারণে তাঁদের ওপর নির্ভর করার সুযোগ কম। গোপনীয়তা বিবেচনায় এক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা ঝুঁকিপূর্ণ লেনদেনগুলোতে এক ধরণের রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করছে।

 

বেশীর ভাগ ক্ষেত্রে বৈধভাবে নিবন্ধিত কোম্পানির মাধ্যমে এসব অর্থ লেনদেন হয়ে থাকে এবং এসব প্রতিষ্ঠান আদৌ কোন ব্যবসা বাণিজ্য করে না অথবা করলেও খুব নগণ্য, এ কথা উল্লেখ করে ফিনান্সিয়াল একশন টাস্ক ফোর্স বলেছে, কানাডাতে সংঘবদ্ধ চক্রগুলো মুদ্রা পাচারের ক্ষেত্রে বড় হুমকি হলেও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে অর্থায়নের ঘটনা কিছুটা কম।

 

মুদ্রা পাচার ঘটনায় ৭০ শতাংশ এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে তহবিল যোগানোর ক্ষেত্রে অর্ধেকের বেশী বৈধভাবে নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানগুলোর জড়িত থাকার প্রমাণ বিভিন্ন অনুসন্ধানে পাওয়া গেছে বলে উল্লেখ করেছে ফেডারেল সরকারের নিয়ন্ত্রণ সংস্থা ফিনট্র্যাক।

 

এছাড়া কানাডা রেভিনিউ এজেন্সী ২০০৮ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত সময়ে দাতব্য সংস্থার ওপর প্রায় ৫,০০০ অনুসন্ধান শেষে ১৬টি ঘটনায় জাতীয় স্বার্থ বিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার প্রমাণ পেয়েছে। সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে এদের মধ্যে ৮টির অনুমোদন বাতিল করা হয়। ফেডারেল সরকার বর্তমানে ভ্যানকুবার ও টরন্টোতে বাড়ীর দাম অস্বাভাবিক বাড়ার কারণ পরীক্ষা নিরীক্ষা করে দেখছে এবং এরই অংশ হিসেবে কানাডা রেভিনিউ এজেন্সী ভ্যানকুবারের আবাসন খাতে সন্দেহজনক লেনদেন তদন্ত করে দেখার অভিযানে নেমেছে।

 

আবাসন খাতের বিক্রয় প্রতিনিধিরা অনুসন্ধানকারী দলের সদস্যদের জানিয়েছেন, নগদ অর্থ নিয়ে তাঁরা কাজ করেন না এবং এ কারণে মুদ্রা পাচারের ঝুঁকি কম। এসব লেনদেন ব্যাংক, আইনজীবী ও গৃহঋণ দানকারী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে করা হয়ে থাকে। তবে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বিক্রয় প্রতিনিধিরা কেনাবেচার ক্ষেত্রে লোক দেখানো তথ্য যাচাই বাছাই করে। তারা শুধু কাগজে কলমে নাম থাকা ব্যক্তি কোন অপরাধী বা সন্ত্রাসী চক্রের সাথে যুক্ত কিনা সেটা দেখে। সন্দেহজনক লেনদেন যাচাই করতে আবাসন খাতের প্রতিষ্ঠানগুলো বেশীর ভাগ ক্ষেত্রে তাদের অভিজ্ঞতার ওপর নির্ভর করে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। সন্ত্রাসী চক্রের মুদ্রা পাচার অথবা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে তহবিল যোগানোর কাজে আবাসন খাতকে ব্যবহার করার ঝুঁকি এখন কোন নির্দিষ্ট স্থান বা দেশের সমস্যা নয়, এটা বৈশ্বিক ব্যাপার। শুধু ভ্যানকুবার বা টরন্টো নয়, কুইবেকও এ কাজে ব্যবহৃত হওয়ার ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

পড়া হয়েছে 469 বার

আপনার মতামত জানান...

আপনার মতামত জানানোর জন্য ধন্যবাদ

স্বত্ব © Canadar Khobor Inc.
সম্পাদকঃ শাহানা খান
নির্বাহী সম্পাদকঃ শাহরিয়ার সোহেব
ইমেইলঃ এই ইমেইল ঠিকানাটি spambots থেকে রক্ষা করা হচ্ছে। এটি দেখতে হলে আপনার জাভা স্ক্রিপ্ট সক্রিয় থাকতে হবে।
ফোনঃ +1 (647) 716-4529, +1 (416) 320-3070