শুক্রবার, 23 ফেব্রুয়ারী 2024

অন্টারিওতে অভাবের তাড়নায় শিশুদের যেতে হচ্ছে আশ্রয়কেন্দ্রে

মঙ্গলবার, 12 অক্টোবার 2021 01:29
ফিডব্যাক দিন
(0 votes)

নিজস্ব প্রতিবেদক

 

অন্টারিওতে মূলত দারিদ্র্যের কারণেই পরিবারের সন্তানদের যেতে হচ্ছে আশ্রয় কেন্দ্রে। খাদ্য, বাসস্থান ও অন্যান্য খরচ মেটানোর সামর্থ্য এসব পরিবারের না থাকায় অভিভাবকদের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হতে হচ্ছে শিশু-কিশোরদের।

 

প্রথমবারের মতো পরিচালিত এক গবেষণার উদ্ধৃতি দিয়ে টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এবং শিশু সহায়তা কেন্দ্রের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা দেবোরাহ গুডম্যান বলেছেন, দারিদ্র্যের শিকার এসব পরিবার প্রয়োজনীয় খাবার কিনতে হিমশিম খাচ্ছে, সময়মতো ঘরভাড়া দিতে পারছে না। অত্যন্ত চাপের মুখে কোন কোন অভিভাবক দু’টো এমনকি তিনটে কাজ করতে বাধ্য হচ্ছে। এ অবস্থায় তাদের অনেকেই মানসিক সমস্যা বা আসক্তির শিকার হচ্ছে। আর ঠিকমতো লালন পালন করতে না পারায় তাদের সন্তানদের আশ্রয় মিলছে সহায়তা কেন্দ্রে।

 

বেসরকারী ব্যবস্থাপনায় অন্টারিও প্রদেশে ৪৭টি শিশু সহায়তা সংঘ (Children’s Aid Society) রয়েছে এবং ২০১৪-১৫ সালে গড়ে ১৫,৬২৫ শিশু-কিশোর এসব প্রতিষ্ঠানের হেফাজতে ছিলো। গবেষণায় বলা হয়েছে, মাত্র ১৫ শতাংশ সেখানে গেছে নির্যাতনের কারণে। আর বেশীর ভাগ অর্থাৎ ৮৫ শতাংশেরই ঠাই নিতে হয়েছে দারিদ্র্যের কারণে সংসারে অশান্তি, বাবা-মায়ের বিবাদ ও অবহেলার শিকার হয়ে।

 

শতাধিক বছর আগে এতিম শিশু-কিশোরদের নিরাপত্তা দেয়ার লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠিত হয় শিশু সহায়তা সংঘ। সময়ের সাথে সাথে আর্থ-সামাজিক অবস্থার পরিবর্তন হলেও এবারই প্রথম প্রদেশের ১৭টি কেন্দ্রের ১৪ বছর বয়স পর্যন্ত ৪,৯৬১ শিশু-কিশোরের ওপর একদল গবেষক এ ধরণের একটি গবেষণা করেন। এসব কেন্দ্র আগে এতিম শিশুদের ঠিকানা হলেও বর্তমানে শহরের ব্যয়বহুল জীবন ও সামাজিক অস্থিরতায় দিশেহারা সব ধরণের পরিবারের সন্তানদের বিকল্প আবাস হয়ে দাড়িয়েছে।

 

শিশু সহায়তা সংঘের জন্য দারিদ্র্যের বিষয়টাকে ‘ঘরের মধ্যে হাতি’ আখ্যা দিয়ে গবেষণার অন্যতম প্রধান গুডম্যান বলেছেন, প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরেই ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর দারিদ্র্যের বিষয়টা দেখে আসছে। কিন্তু এ বিষয়ে কখনো তারা কথা বলেনি বা নীতি নির্ধারকদের ওপর চাপ প্রয়োগ করেনি। “আমরা শিশুদের দুর্ভোগের কথা বলতে পারি। কিন্তু এর কারণ হিসেবে দারিদ্রের বিষয়টি তুলে ধরার কাজ আমরা করতে পারিনি। আর এ বিষয়ে সরকারও নিরব থেকেছে।“

 

সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় পরিষ্কারভাবেই জানিয়ে দিয়েছে সহায়তা সংঘের মূল কাজ শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, এ কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, দারিদ্র্যের বিষয়ে তদ্বির করার এখতিয়ার এ প্রতিষ্ঠানকে দেয়া হয়নি এবং এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে কখনো কিছু জানতে চাওয়া হয়নি। বর্তমানে এ কাজে দায়িত্বপ্রাপ্ত শিশু ও যুব উন্নয়ন মন্ত্রণালয় বাৎসরিক দেড় বিলিয়ন ডলারের বাজেট নিয়ন্ত্রণ করছে।

 

গবেষণার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নব্বই-এর দশকে ক্ষমতাসীন রক্ষণশীল সরকার কল্যাণ ভাতাসহ অন্যান্য সামাজিক নিরাপত্তার সুযোগ-সুবিধা কমিয়ে দিলে দুরবস্থার মধ্যে থাকা এসব পরিবারের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে এবং পরবর্তী সময়ে আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে শিশু সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বাড়তে থাকে।

 

গবেষণার অন্যতম প্রধান নিকো ট্রচমা বলেন, আসলে এসব পরিবার বিভিন্ন ধরণের প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় সেবা থেকে তারা বঞ্চিত হচ্ছে দারিদ্র্যের কারণে এবং এ অবস্থা শিশুদের স্কুল তথা শিক্ষা জীবনেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

 

একটা পরিবারের জন্য প্রয়োজনীয় খাবার কেনার টাকা না থাকাটা এমন এক পরিস্থিতির ইঙ্গিত দেয় যেটা এ গবেষণায় বিশ্লেষণ করা সম্ভব হয়নি। ট্রচমা সম্প্রতি সরকারের অন্য একটি প্রকল্পেও অন্যতম প্রধান হিসেবে কাজ করেছেন। প্রকল্পের জন্য তৈরি প্রতিবেদনে দারিদ্র্যের কারণ হিসেবে তিনি সমাজে বিদ্যমান বৈষম্যের বিষয়গুলো সামনে নিয়ে এসেছেন এবং এ কারণে সার্বিক পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন।

 

প্রতিষ্ঠানের মুখপাত্র ক্যারোলিন নিউটন শিশু সহায়তা সংঘকে হাসপাতালের জরুরী বিভাগের সাথে তুলনা করে এসব পরিবারগুলোর জন্য একটা সমন্বিত ব্যবস্থা নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, এসব পরিবারের উন্নয়নে এমন কর্মসূচি নেয়া প্রয়োজন যার মাধ্যমে তারা এ পরিস্থিতি কাটিয়ে সুস্থ জীবনে ফিরতে সক্ষম হবে।

 

পড়া হয়েছে 26 বার

আপনার মতামত জানান...

আপনার মতামত জানানোর জন্য ধন্যবাদ

পুরনো খবর খুঁজুন

« February 2024 »
Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
      1 2 3 4
5 6 7 8 9 10 11
12 13 14 15 16 17 18
19 20 21 22 23 24 25
26 27 28 29      
স্বত্ব © Canadar Khobor Inc.
সম্পাদকঃ শাহানা খান
নির্বাহী সম্পাদকঃ শাহরিয়ার সোহেব
ইমেইলঃ এই ইমেইল ঠিকানাটি spambots থেকে রক্ষা করা হচ্ছে। এটি দেখতে হলে আপনার জাভা স্ক্রিপ্ট সক্রিয় থাকতে হবে।
ফোনঃ +1 (647) 716-4529, +1 (416) 320-3070